আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২০২৫: ইতিহাস, তাৎপর্য ও মহানবীর জীবনাদর্শ

আজ ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে পালিত হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। জানুন মহানবী (সা.)-এর জন্ম, প্রভাব, জীবনাদর্শ এবং এই পবিত্র দিনের ইসলামিক তাৎপর্য | Medicef Health

 

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও এর তাৎপর্য

 

ঈদ ও মিলাদ শব্দের অর্থ

 

আরবি শব্দ ‘ঈদ’ এর অর্থ হলো খুশি হওয়া, ফিরে আসা, আনন্দ উদযাপন করা। আর ‘মিলাদ’ শব্দের অর্থ জন্মতারিখ, জন্মদিন বা জন্মকাল।

অতএব, ‘মিলাদুন্নবী’ (সা.) বলতে নবীজীর আগমনকে বোঝায়

‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ (সা.) বলতে নবী করীম (সা.)-এর আগমনে আনন্দ উদযাপন বোঝায়।

 

অন্ধকারময় আরবের মধ্যে মহানবী (সা.) শান্তি নিয়ে এসে মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেন। তাঁর পবিত্র আগমনে খুশী উদযাপন করাটাই হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।

 

ছবিঃ মসজিদে নববী

 

মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও প্রভাব

 

হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তাঁর জন্মকে কেন্দ্র করে এমন কিছু ঘটনা সংঘটিত হয় যা সমগ্র আরব জাহানকে বিমোহিত করেছিল। জন্মের পর তিন দিন তিন রাত কা’বা শরীফ দুলতে থাকে। এই ঘটনার মাধ্যমে কুরাইশ গোত্রের মানুষ নবীজীর আগমনের খবর প্রথমবার জানতে পারে (সিরাতে হালবিয়া)।

 

মহানবী (সা.) এমন এক ব্যক্তি, যার নাম পবিত্র ইঞ্জিল ও তাওরাত শরীফে উল্লেখ আছে। সেখানে তাকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘আহমদ’, আর কুরআনে ‘মুহম্মাদ’ নামে (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

 

 

 

জন্মের বিশেষ নিদর্শন

 

মহানবী (সা.) যে রাতে জন্মগ্রহণ করেন, সেই রাতে পারস্যের রাজপ্রাসাদে ভূকম্পন ঘটে এবং ১৪টি গম্বুজ ভেঙে পড়ে। এই নিদর্শন ১৪ জন ক্ষমতাবান বংশধরের ইঙ্গিত প্রদান করেছিল। এছাড়া পারস্যে হাজার বছরের আগুন নিভে যায়।

 

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) খাত্নাবিশিষ্ট অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যাতে লজ্জাস্থান কেউ দেখতে না পারে (মু’জামে আওসাত, হাদীস নং-৬১৪৮)।

 

 

 

১২ রবিউল আউয়াল: বিশেষ দিন

 

মহানবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। এই দিনেই তিনি পৃথিবীবাসীকে কাঁদিয়ে ওফাত লাভ করেন। জন্মদিনটি উপমহাদেশে দীর্ঘকাল ধরে পালন হয়ে আসছে।

 

সোমবারে জন্মগ্রহণের কারণে নবী (সা.) প্রতি সোমবার নফল রোযা পালন করতেন। তিনি বলেছেন:

 

> “এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমাকে নবুওয়াত দান করা হয়েছে” (সহিহ্ মুসলিম: ১১৬২)।

 

 

 

সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমলনামা আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন হয়, তাই রোযা অবস্থায় আমার আমলনামা উপস্থাপন করা হোক—এটাই তিনি পছন্দ করতেন (সুনানে তিরমিজি: ৭৪৭)।

 

 

 

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ

 

মহানবী (সা.) কেবল মুসলমানদেরই নয়, সমস্ত মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। তিনি অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অনাচার দূর করে শান্তি, সভ্যতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন।

 

আজকের বিশ্বসভ্যতা সবচেয়ে বেশি ঋণী ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রতি। শান্তি, মানবাধিকার ও মানবিক বিকাশের ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার্য।

 

 

 

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের ইতিহাস

 

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উৎসবের প্রাথমিক প্রচলন ছিল না। হিজরি ৪র্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি শিয়া সম্প্রদায় এটি শুরু করে। ৩৫২ হিজরিতে বাগদাদের আব্বাসীয় শাসক মুইজলি দীনিল্লাহ্ ১০ মুহররম এবং জিলহজ্জের অনুষ্ঠান চালু করেন।

 

মিশরের ফাতেমীয় শাসকগণ রবিউল আউয়াল ১২ তারিখে নবী (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন শুরু করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল সম্রাটরা এটি প্রচলিত করেন।

 

ইতিহাস অনুযায়ী, আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দীন কুকুবুরী প্রথম এই উৎসবকে সুন্নী সহ মুসলিমদের মধ্যে বড় আকারে উদযাপন শুরু করেন। আনুষ্ঠানিক মিলাদ উদযাপন শুরু হয় ৬০৪ হিজরি থেকে।

 

 

 

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে

 

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের পক্ষে মুসলিমরা সূরা আলে ইমরান ৮১ এবং সূরা ইউনুস ৫৭-৫৮ আয়াত উল্লেখ করেন। এতে আল্লাহ প্রেরিত নবীর আগমনে আনন্দ প্রকাশ করার নির্দেশনা রয়েছে।

 

বর্তমান সময়ে, যদি রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা হয়, পৃথিবী হবে

শান্তিময় ও সমৃদ্ধ।

 

 

 

আজ আমরা উদযাপন করছি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।


সম্পাদক
সম্পাদকীয়  
প্রকাশিত শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর