কুকুর কামড়ালে কী করবেন? জানুন সাবান–পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধোয়ার মাধ্যমে কীভাবে জলাতঙ্কের ঝুঁকি ৭০% পর্যন্ত কমানো যায়। প্রতিরোধ, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

চিত্রঃ কুকুরের কামড় দেওয়ার দৃশ্য
জলাতঙ্ক: একটি প্রাণঘাতী রোগ
জলাতঙ্ক (Rabies) হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা সাধারণত কুকুর, বিড়ালসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। একবার রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে এর কোনো চিকিৎসা নেই এবং প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটে। তবে সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে জলাতঙ্ক পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কুকুর কামড়ানোর পর প্রথম করণীয়
কুকুর বা অন্য প্রাণী কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
আক্রান্ত স্থানকে সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এতে ভাইরাসের বড় একটি অংশ ধুয়ে যায়
গবেষণা অনুযায়ী, শুধু এই ধাপেই প্রায় ৭০% পর্যন্ত জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়
ক্ষত ধোয়ার পর যা করবেন
ক্ষতস্থান ধোয়ার পর অ্যান্টিসেপটিক (যেমন পোভিডোন আয়োডিন) ব্যবহার করতে পারেন
ক্ষতে লবণ, মাটি, মরিচ, কেরোসিন বা কোনো রাসায়নিক দেবেন না
দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নিতে হবে
গুরুতর কামড় (গভীর ক্ষত, মাথা-মুখ বা হাতের আঙুলে কামড়) হলে অবশ্যই Rabies Immunoglobulin (RIG) নিতে হবে
কেন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
কামড়ের পর যত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন নেওয়া হয়, তত বেশি কার্যকর হয়
উপসর্গ শুরু হলে (জ্বর, অস্থিরতা, পানি বা বাতাসে ভয় পাওয়া, খিঁচুনি) আর কোনো চিকিৎসা কার্যকর হয় না
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে করণীয়
কুকুর কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থানকে সাবান–পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলুন। এটি জলাতঙ্ক প্রতিরোধের প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর ধাপ। তারপর অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন।
কুকুর কামড়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধ, কুকুর কামড়ের চিকিৎসা, কুকুর কামড়ালে করণীয়, Rabies vaccine
লেখক ও গবেষকঃ
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ
– সহঃ মেডিকেল অফিসার, ন্যাচারাল ইন্ডিগো লিঃ