জানুন জাম্বুরার পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং কীভাবে খাওয়া ভালো। ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার সমৃদ্ধ এই মৌসুমি ফল ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
জাম্বুরা অতি পরিচিত একটি মৌসুমি ফল। দামে সস্তা হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি অত্যন্ত মূল্যবান। ন্যাচারাল ইন্ডিগো লিঃ এর মেডিকেল সেন্টারের সহ মেডিকেল অফিসার ও পুষ্টিবিদ মুহাম্মদ রাজু আহমেদ জাম্বুরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন।
> মুহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন:
“টক-মিষ্টি রসালো স্বাদের জাম্বুরা অত্যন্ত উপাদেয় এবং চাহিদা সম্পন্ন দেশি ফল। বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু জাম্বুরা চাষের জন্য উপযোগী, তাই ফলনও ভালো হয়। সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর জাম্বুরার মৌসুম, তখন এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে জাম্বুরা অন্যান্য লেবু জাতীয় ফল, যেমন কমলা, মালটা ইত্যাদির মতো সমৃদ্ধ।”
জাম্বুরার পুষ্টিগুণ
প্রতি ৬০০ গ্রাম ওজনের জাম্বুরায় নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান থাকে:
ক্যালরি: ২৩০ কিলোক্যালরি
পটাসিয়াম: ১৩০০ মিলিগ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৬০ গ্রাম
ভিটামিন সি: ৪১% (প্রতিদিনের প্রয়োজনের)
রাইবোফ্ল্যাভিন: ১৩% (প্রতিদিনের প্রয়োজনের)
কপার: ৩০% (প্রতিদিনের প্রয়োজনের)
থায়ামিন: ১৮% (প্রতিদিনের প্রয়োজনের)
ফাইবার: ৬% (প্রতিদিনের প্রয়োজনের)
এছাড়াও জাম্বুরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ।
জাম্বুরার উপকারিতা
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, জাম্বুরা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পুষ্টিগুণ শরীরকে নানা দিক থেকে সহায়তা করে।
1. এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: ভিটামিন সি কোষের ক্ষয় কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
2. স্নায়বিক কার্যক্রম: রাইবোফ্ল্যাভিন ও থায়ামিন স্নায়ু ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখে।
3. মিনারেল সমৃদ্ধ: পটাসিয়াম এবং কপার দেহের মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে।
4. হজম সহায়ক: ফাইবার কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং খাদ্যনালীতে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি করে।
5. ওজন নিয়ন্ত্রণ: কম ক্যালরির হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
6. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: রক্তের খারাপ চর্বি কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে স্বাস্থ্যবান রাখে।
7. গর্ভবস্থায় উপকারী: অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জাম্বুরা রাখা ভালো।
> মুহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন: গর্ভাবস্থায় এই ফলের পুষ্টিগুণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা
কিডনির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের কম পরিমাণে জাম্বুরা খাওয়া উচিত।
রক্তে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকলে জাম্বুরা এড়ানো উচিত।
কীভাবে খাওয়া ভালো
জাম্বুরার ভেতরের রঙ (সাদা, লাল, গোলাপি) পুষ্টিগুণে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তবে লাল জাম্বুরা একটু বেশি চিনি ধারণ করে।
লবণ বা মশলা মেখে খাওয়ার চেয়ে ফ্রেশ বা শরবত আকারে খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
উচ্চ রক্তচাপ থাকা ব্যক্তিদের লবণ দিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
দিনের যেকোনো সময় জাম্বুরা খাওয়া যায়।
খাবারের সঙ্গে ফল খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত, বিশেষ করে দেশীয় টক জাতীয় ফল।
জাম্বুরা শুধু সুস্বাদু নয়, বরং পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত উপকারী। মৌসুমে এই ফল খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের চাহিদা সহজেই পূরণ করা যায়।