আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

ডেঙ্গু হলে কী করবেন, কী কী করবেন না

ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি

 

বাংলাদেশে বর্ষা ও শরৎকাল মিলিয়ে প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস ইজিপ্টি প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। শহরাঞ্চল ও পানি জমে থাকা এলাকায় এর বিস্তার সবচেয়ে বেশি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে।

 

এডিস ইজিপ্টি প্রজাতির মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায়

 

ডেঙ্গু হলে করণীয় ও বর্জনীয় | লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ | Medicef Health

 

ডেঙ্গু হলে কী করবেন, কী করবেন না, কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এবং প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিতে হবে—জানুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।

 

জ্বর ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে

 

ডেঙ্গুর লক্ষণ ও শনাক্তকরণ

 

 

ডেঙ্গুর প্রথম এবং সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর। জ্বর ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে শুধু জ্বর থাকলেই ডেঙ্গু বলা যায় না, এর সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে—

 

 

  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা
  • চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা
  • শরীরে ফুসকুড়ি বা লালচে দাগ
  • ক্ষুধামন্দা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • প্রচণ্ড দুর্বলতা

 

 

ডেঙ্গুর নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের জন্য ডেঙ্গু এনএস-১ অ্যান্টিজেন টেস্ট এবং পরবর্তী সময়ে IgM/IgG অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়ে থাকে।

 

জ্বর হলে অবশ্যই পরিক্ষা করতে হবে

 

ডেঙ্গুর ক্যাটাগরি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা

 

 

চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু রোগীদের সাধারণত তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন:

 

🔹 ক্যাটাগরি এ

 

কেবলমাত্র জ্বর থাকে, অন্য কোনো জটিলতা নেই।

এদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণই যথেষ্ট।

 

 

🔹 ক্যাটাগরি বি

 

জ্বরের সঙ্গে বমি, পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অন্তঃসত্ত্বা বা কিডনি/লিভারের অসুখ থাকে।

 

এদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।

 

 

🔹 ক্যাটাগরি সি

 

গুরুতর অবস্থা; যেমন রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ।

 

এ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

 

 

 

 

বাড়িতে করণীয়

 

  • ডেঙ্গু রোগীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে বিশ্রাম এবং তরল গ্রহণে।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ পান করতে হবে।
  • সহজপাচ্য খাবার যেমন—ভাত, খিচুড়ি, স্যুপ খাওয়া ভালো।
  • জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ৮টি ট্যাবলেট।
  • শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে কুসুম গরম পানিতে স্পঞ্জ করে দেওয়া যেতে পারে।
  • নিয়মিত প্রস্রাব হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

 

 

 

 

যা করবেন না

 

  • অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না—কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্লাটিলেট নিজে থেকেই স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
  • ভেষজ চিকিৎসা বা পেঁপেপাতার জুসে ভরসা করা উচিত নয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
  • নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না।

 

 

 

 

বিপদের সংকেত

 

 

ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু বিপজ্জনক সংকেত দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে—

 

 

  • হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া
  • নাক, মাড়ি বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট বা অঙ্গ বিকল হওয়ার লক্ষণ
  • এসব ক্ষেত্রে শিরাপথে স্যালাইন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে।

 

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ

 

 

ডেঙ্গুর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করা অনেক সহজ। প্রতিরোধের জন্য কিছু করণীয়—

 

 

  • বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না।
  • প্রতি তিন দিনে একবার ফুলের টব, ড্রাম, কুলার বা টায়ার পরিষ্কার করুন।
  • দিনে ঘুমালে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।
  • শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করুন।
  • পূর্ণ হাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরিধান করুন।

 

 

 

 

ডেঙ্গু একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। সচেতনতা, প্রাথমিক করণীয় এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এর মারাত্মক প্রভাব এড়ানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে, বরং নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই রোগ থেকে মুক্তির মূল উপায়। আর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত।


সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর