কথায় আছে, “দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে হয়।” খাওয়া-দাওয়া, কথা বলা থেকে শুরু করে আমাদের আত্মবিশ্বাস—সবকিছুই নির্ভর করে সুস্থ দাঁত ও মাড়ির ওপর। অথচ আমরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি এই দাঁতের যত্নে।

শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো দাঁতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তা শুধু দাঁত ও মাড়িতে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের ক্ষয় ও দীর্ঘদিনের মুখের প্রদাহ অবহেলা করলে তা থেকে মুখগহ্বর ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দাঁতের ক্ষয় হয় কেন?
আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের খাবার খাই। খাওয়ার সময় খাবারের কিছু অংশ দাঁতের ফাঁকে থেকে যায়। মুখের লালায় থাকা প্রোটিন ও ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে এসব কণা মিশে ডেন্টাল প্লাক তৈরি করে।
সময়মতো এই প্লাক পরিষ্কার না করলে তা শক্ত হয়ে যায়, যাকে বলা হয় টার্টার বা ক্যালকুলাস।
এর প্রভাবে দাঁত ও মাড়ি নষ্ট হতে শুরু করে।
দেখা দেয় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতে ব্যথা, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া।
যদি এ অবস্থায়ও যত্ন নেওয়া না হয়, তবে সংক্রমণ ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মুখগহ্বর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ
ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবন
অতিরিক্ত মদ্যপান
দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির প্রদাহ অবহেলা করা
মুখের ভেতরে ঘা বা ক্ষতকে গুরুত্ব না দেওয়া
সঠিক ওরাল হাইজিন বজায় না রাখা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ও দাঁতের অবহেলার কারণে মুখগহ্বর ক্যান্সারের হার তুলনামূলক বেশি।
কিভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব?
দাঁত ও মুখের সঠিক যত্ন নিলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা যায় এবং মুখগহ্বর ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য মেনে চলতে হবে কয়েকটি মৌলিক নিয়ম—
১. দিনে দুইবার ব্রাশ করুন
সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা সবচেয়ে জরুরি।
রাতে ব্রাশ না করলে মুখে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া সারা রাত কাজ করে দাঁতের ক্ষতি করে।
২. ফ্লসিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন
ব্রাশ দাঁতের সব জায়গায় পৌঁছায় না।
ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা ও প্লাক সহজে দূর হয়।
৩. খাবারের পর মুখ ধুয়ে ফেলুন
বিশেষ করে মিষ্টি বা আঠালো খাবার খাওয়ার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করুন।
এতে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৪. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করুন
বছরে অন্তত দুইবার দাঁতের ডাক্তারকে দেখানো উচিত।
সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
৫. ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন
ধূমপান, পান, জর্দা বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত মদ্যপান থেকেও বিরত থাকুন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের ক্ষয়কে ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক। শুরুতে এটি দাঁতের ব্যথা বা মাড়ির রক্ত পড়ার মতো সাধারণ উপসর্গ দিয়ে দেখা দিলেও অবহেলায় তা বড় জটিলতায় রূপ নেয়। সময়মতো সঠিক যত্ন নিলে শুধু দাঁত নয়, পুরো শরীরই সুস্থ থাকে।
দাঁতের যত্নে সচেতন হোন। নিয়মিত ওরাল হাইজিন মেনে চলুন। তবেই দাঁতের ক্ষয় থেকে শুরু করে ভয়ঙ্কর মুখগহ্বর ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।