নবজাতক শিশুর প্রথম মাসগুলো হলো জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে শিশুর শরীর, মন এবং ইমিউন সিস্টেম দ্রুত বিকাশমান। তাই পিতা-মাতা ও যত্নকারীকে সতর্ক থাকা এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. দুধ ও পুষ্টি
- নবজাতকের একমাত্র খাবার হলো মায়ের দুধ।
- প্রথম ৬ মাসে শুধু মায়ের দুধই যথেষ্ট।
- নবজাতক সাধারণত ২–৩ ঘন্টায় একবার দুধ খায়, দিনে ৮–১২ বার।
- বুক খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখটি সম্পূর্ণভাবে নাক পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে, যাতে শিশুর সঠিকভাবে দুধ নেওয়া নিশ্চিত হয়।
যেসব ক্ষেত্রে মা দুধ দিতে পারছেন না, সেখানে ফর্মুলা মিল্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. ঘুম ও বিশ্রাম
- নবজাতক দিনে ১৬–১৮ ঘণ্টা ঘুমায়।
- ঘুমানোর সময় শিশুকে পিঠের দিকে শুইয়ে রাখুন, শ্বাসনালী বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য।
- বিছানায় কঠিন ও সুরক্ষিত ব্যাকিং ব্যবহার করুন; খেলনা, নরম কুশন বা ঢিলেঢালা কম্বল রাখতে হবে না।
- ঘুমের সময় শিশুর তাপমাত্রা সঠিক রাখা জরুরি।
৩. গোসল ও ত্বকের পরিচর্যা
- নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল।
- প্রথম ৭–১০ দিন: স্পঞ্জ বাথ বা আর্দ্র কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা।
- গোসলের জন্য হালকা বেবি সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
- নাভি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, যাতে সংক্রমণ এড়ানো যায়।
- গোসলের পর ত্বক হালকা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মাখানো যেতে পারে।
৪. ডায়াপার ও নাপিত পরিচর্যা
- নবজাতকের গোঁফ ও মল/প্রস্রাব ত্বকের সংক্রমণ রোধের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
- প্রতিটি মল বা প্রস্রাবের পর ডায়াপার পরিবর্তন করুন।
- ডায়াপারের ত্বকের নিচে ফোলাভাব বা লালচে দাগ দেখা দিলে ক্রিম ব্যবহার করুন।
৫. স্বাস্থ্য ও ভ্যাকসিনেশন
- নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন।
- প্রাথমিক পেডিয়াট্রিশিয়ানের চেকআপ নিশ্চিত করুন।
- শিশুর টিকা শিডিউল অনুযায়ী ভ্যাকসিন দিন।
- জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তার দেখান।
৬. পরিবেশ ও নিরাপত্তা
- নবজাতককে পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা জরুরি।
- ঘর পরিষ্কার ও হালকা উষ্ণ রাখা।
- অতিরিক্ত শব্দ, ধুলো বা ধূমপান থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
- শিশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্পর্শ ও আলাপ শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করে।
৭. মানসিক স্পর্শ ও সম্পর্ক
- শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য ভালোবাসা ও আলাপ অপরিহার্য।
- কান্না স্বাভাবিক, তবে শিশুর সঙ্গে নরমভাবে কথা বলা, হাসি বা চোখের যোগাযোগ করা উচিত।
- শিশুর মানসিক শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যকর শারীরিক বিকাশে সহায়ক।
নবজাতকের পরিচর্যা মানে শুধু দুধ খাওয়ানো নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক যত্নের প্রক্রিয়া।
সঠিক পরিচর্যা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে। পিতা-মাতা ও যত্নকারীকে সচেতনভাবে এবং ধৈর্য ধরে নবজাতকের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি।