মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো প্রজনন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নতুন প্রাণ সৃষ্টি ও বংশবিস্তার নিশ্চিত হয়। পুরুষ ও নারীর প্রজনন অঙ্গ ভিন্ন হলেও উভয়ের কাজ পরস্পর পরিপূরক। নিচে পুরুষ ও নারীর প্রজনন অঙ্গের গঠন ও কার্যকারিতা আলোচনা করা হলো।
পুরুষের প্রজনন অঙ্গ ( Male Reproductive organs)
পুরুষের প্রজনন অঙ্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় – বাহ্যিক অঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ।
বাহ্যিক অঙ্গ
- লিঙ্গ (Penis): যৌন মিলন ও মূত্রত্যাগের অঙ্গ।
- অণ্ডকোষ থলি (Scrotum): ত্বকের থলি, যেখানে অণ্ডকোষ থাকে এবং শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখে।

ছবিঃ পুরুষের প্রজনন অঙ্গ
অভ্যন্তরীণ অঙ্গ
- অণ্ডকোষ (Testis): শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে।
- এপিডিডাইমিস (Epididymis): শুক্রাণু জমা ও পরিপক্ব হওয়ার স্থান।
- ভ্যাস ডিফারেন্স (Vas deferens): শুক্রাণুকে অণ্ডকোষ থেকে ইউরেথ্রার দিকে নিয়ে যায়।
- সেমিনাল ভেসিকল (Seminal vesicle): শুক্রাণুকে পুষ্টি যোগায় এমন তরল নিঃসরণ করে।
- প্রোস্টেট গ্রন্থি (Prostate gland): শুক্রাণুকে সক্রিয় রাখার জন্য তরল নিঃসরণ করে।
- ইউরেথ্রা (Urethra): মূত্র ও বীর্য নির্গমনের পথ।
নারীর প্রজনন অঙ্গ ( Reproductive organs)
নারীর প্রজনন অঙ্গও দুই ভাগে বিভক্ত – বাহ্যিক অঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ।
বাহ্যিক অঙ্গ (Vulva)
- ল্যাবিয়া মেজরা ও মাইনরা (Labia majora & minora): যোনিপথকে সুরক্ষা দেয়।
- ক্লিটোরিস (Clitoris): যৌন আনন্দের জন্য সংবেদনশীল অঙ্গ।
- যোনিপথের প্রবেশদ্বার (Vaginal opening): যৌন মিলন, সন্তান জন্ম ও মাসিক রক্ত নির্গমনের পথ।

ছবিঃ নারীর প্রজনন অঙ্গের গঠন
অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ( Internal Organ)
- ডিম্বাশয় (Ovary): ডিম্বাণু উৎপাদন ও ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন হরমোন নিঃসরণ করে।
- ফ্যালোপিয়ান টিউব (Fallopian tube): ডিম্বাণুকে গর্ভাশয়ে নিয়ে যায় এবং এখানে নিষেক ঘটে।
- গর্ভাশয় (Uterus): ভ্রূণ বিকাশের স্থান।
- সার্ভিক্স (Cervix): গর্ভাশয়ের নিচের অংশ, যোনির সঙ্গে যুক্ত।
- যোনি (Vagina): যৌন মিলন, প্রসব ও মাসিক রক্ত নির্গমনের পথ।
পুরুষ ও নারীর প্রজনন অঙ্গ পরস্পর নির্ভরশীল। একজনের উৎপাদিত শুক্রাণু ও অপরজনের উৎপাদিত ডিম্বাণুর মিলনের মাধ্যমে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়। তাই যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।