গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে জীবন অনেকটাই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এই সময়ে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তবে যেকোনো বয়স্ক বা তরুণের জন্যও সতর্ক থাকা জরুরি। চলুন জেনে নিই কিভাবে গরমে সুস্থ থাকা যায়।

ছবিঃ সংগৃহীত
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
তৃষ্ণা না হলেও প্রতি কিছু সময় অন্তর পানি পান করুন। ঘরের তাপমাত্রার পানি ধীরে ধীরে পান করুন। খুব ঠান্ডা পানি বা বরফপানি এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২. রোদে থাকার পর হাত-পা ধোয়ার নিয়ম
বাইরে রোদে থাকলে বাসায় ফিরেই হাত-পা ধোবেন না। গোসল বা হাত-পা ধোয়ার আগে কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩. গরম সময় বাইরে কম থাকুন
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে তীব্র। শিশুদের এ সময়ে বাইরে খেলতে দেবেন না। যাদের পেশাগত কারণে বাইরে থাকতে হয়, তারা ছায়ায় বা ঠান্ডায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
৪. হালকা ও সঠিক পোশাক ব্যবহার করুন
ছাতা, টুপি ব্যবহার করুন। হালকা, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। আঁটসাঁট বা সিনথেটিক পোশাক এড়িয়ে চলুন। চোখ রক্ষায় সানগ্লাস ও সানব্লক ব্যবহার করুন।
৫. শরীর হাইড্রেটেড রাখুন
ওরস্যালাইন, লেবুপানি, লাচ্ছি, ফলের রস বা শরবত পান করুন। তরমুজ, শসা, কমলার মতো পানিযুক্ত ফল বেশি খান।
৬. এসি রুমে প্রবেশের আগে সতর্ক থাকুন
গরম থেকে এসি রুমে সরাসরি প্রবেশ করবেন না। আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এসি থেকে বের হলেও শরীরকে মানিয়ে নিতে সময় দিন।
৭. হিটস্ট্রোক ও হিট ক্র্যাম্প প্রতিরোধ
অতিরিক্ত গরমে চোখ-মুখে পানি ছিটান বা ঠান্ডা পানিতে গা স্পঞ্জ করুন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে।
৮. নিয়মিত গোসল করুন
প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করুন। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং গরম সহনীয় হয়।
৯. ঘর ঠান্ডা রাখুন
দিনের বেলায় জানালা বন্ধ রাখুন, বিকেলে খুলুন। ভারী পর্দা ব্যবহার করুন যাতে রোদ সরাসরি ঘরে প্রবেশ না করে।
১০. সবুজ পরিবেশ তৈরি করুন
বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় গাছ লাগান। গাছপালা পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

ছবিঃ পিক্সেল ডটকম
হিটস্ট্রোক: সতর্কতার সংকেত
প্রচণ্ড গরমে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়াকে হিটস্ট্রোক বলে।
লক্ষণগুলো:
প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা
মাথাব্যথা ও ঝিমঝিম ভাব
ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
হাত-পায়ের মাংসপেশিতে টান বা ব্যথা
বুক ধড়ফড় ও অতিরিক্ত তৃষ্ণা
শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
দুর্বলতা ও শেষে অচেতন হয়ে যাওয়া
হিটস্ট্রোকে করণীয়
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিন।
২. অতিরিক্ত কাপড়চোপড় খুলে ফেলুন।
৩. পানি, শরবত, ফলের রস বা ওরস্যালাইন দিন (অচেতন হলে মুখে কিছু দেবেন না)।
৪. শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন।
৫. কুলিং ফ্যান ব্যবহার করুন।
৬. বগলের নিচে কাপড়ে মোড়ানো আইস প্যাক রাখতে পারেন।
৭. রোগী অচেতন হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
গরমে সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পানি, হালকা পোশাক, ছায়া এবং সবুজ পরিবেশে থাকা শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। সামান্য সতর্কতাই প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে রক্ষা করতে পারে।