আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে নতুন কড়াকড়ি: ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) গুরুত্বপূর্ণ গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৫

বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে DGDA-এর সরকারি নির্দেশনা
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক ঘোষণা।

 

এন্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা: ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ গণবিজ্ঞপ্তি

 

বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বা এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র এন্টিবায়োটিক—অনিয়ন্ত্রিত, ভুল বা অবৈধ ব্যবহারের কারণে আজ অকার্যকর হওয়ার পথে। এমন একটি সংকটজনক পরিস্থিতিতে সরকারি সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) এন্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহারে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং দেশব্যাপী সকল ফার্মেসী, ফার্মাসিস্ট ও জনসাধারণকে সতর্ক করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

 

বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয় ১৯ নভেম্বর ২০২৫, স্মারক নং ডিজিডিএ/বিজ্ঞপ্তি/২৯-০২/০৯/১৯৩৫৩। এতে এন্টিবায়োটিকের বিক্রয়, সংরক্ষণ, বিতরণ, প্রেসক্রিপশন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিচে বিজ্ঞপ্তির মূল বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো এবং প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

 

 

সরকারি বিজ্ঞপ্তির মূল বক্তব্য (হুবহু)

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

ঔষধ ভবন, মহাখালী, ঢাকা-১২১২

www.dgda.gov.bd

স্মারক নং ডিজিডিএ/বিজ্ঞপ্তি/২৯-০২/০৯/১৯৩৫৩
তারিখঃ ১৯/১১/২০২৫

 

এন্টিবায়োটিক এর যৌক্তিক ব্যবহার সম্পর্কিত সচেতনতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি

 

ফার্মেসী’র মালিক/ফার্মাসিস্টগণের প্রতি নির্দেশনা:

 

১. ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩ এর ৪০ (ঘ) ধারা মোতাবেক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত Over the Counter ঔষধ ছাড়া এন্টিবায়োটিক বা অন্য কোন ঔষধ বিক্রয় বা বিতরণ করা যাবে না।

২. এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্যাদি রেজিস্টারে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৩. স্পষ্ট স্বাক্ষর ও তারিখসহ এন্টিবায়োটিক বিক্রয়ের ক্যাশমেমো প্রদান করতে হবে।

৪. রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক রোগীসাধারণ এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধের ফুল কোর্স যাতে গ্রহণ করে সে বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

৫. এন্টিবায়োটিকসহ সকল ঔষধ নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।

৬. রেড লেবেল সম্বলিত মোড়কে উপস্থাপণ ব্যতিরেকে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত থাকুন।

৭. উল্লেখ্য যে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতিরেকে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ বিক্রয় বা বিতরণ করলে এবং এন্টিবায়োটিক ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্যাদি সম্বলিত রেজিস্টার সংরক্ষণ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এন্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহারকারী জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ:

 

১. রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতিরেকে এন্টিবায়োটিক ক্রয়, সেবন বা ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

২. মোড়কে উল্লিখিত মেয়াদ দেখে ঔষধ ক্রয় করুন এবং বিক্রেতার স্পষ্ট স্বাক্ষর ও তারিখসহ এন্টিবায়োটিক ক্রয়ের ক্যাশমেমো সংগ্রহ করুন।

৩. রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী পূর্ণ কোর্স এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে জীবাণু এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যায় যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ন।

৪. সুস্থতা অনুভব করলেও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক এন্টিবায়োটিক-এর ফুল কোর্স সম্পন্ন করুন।

৫. মেয়াদ উত্তীর্ণ, নষ্ট হওয়া এন্টিবায়োটিক মাটি, পানি বা ময়লা আবর্জনার সাথে না ফেলে আপনার নিকটস্থ ফার্মেসীতে ফেরত দিন।

 

মহাপরিচালক

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

ফোন-০২২২২২-৮০৮০৩

Email: dgda.gov@gmail.com

 

গণবিজ্ঞপ্তির বিস্তৃত বিশ্লেষণ

 

নিচে প্রতিটি অংশের গভীর বিশ্লেষণ ও এর পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো, যাতে পাঠক ও জনসাধারণ সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন।

 

 

১. প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: কেন এই কঠোরতা?

 

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে ধারণা গড়ে উঠেছে—

“জ্বর হলে এন্টিবায়োটিক নিলেই ভালো হয়।”

 

কিন্তু বাস্তবে সর্দি-জ্বরের অধিকাংশই ভাইরাসজনিত, যেখানে এন্টিবায়োটিক মোটেও কাজ করে না। চিকিৎসক ছাড়া ভুল অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে—

 

  • জীবাণু প্রতিরোধী হয়ে যায়
  • সংক্রমণ আরও জটিল হয়
  • ভবিষ্যতে শক্তিশালী সংক্রমণে সাধারণ এন্টিবায়োটিক কাজ নাও করতে পারে
  • হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়
  • প্রাণঘাতী সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

 

 

WHO-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—

২০৫০ সালের মধ্যে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মানবজাতির সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

 

 

২. রেজিস্টার সংরক্ষণ: দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনে বড় ভূমিকা

 

এন্টিবায়োটিক বিক্রির ইতিহাস রাখা হলে সরকার—

 

  • কোন এলাকায় অপব্যবহার বেশি
  • কোন ওষুধ বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে
  • কোন ফার্মেসী নিয়ম ভঙ্গ করছে
  • ভবিষ্যতে রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কোথায় বাড়ছে

 

এসব তথ্য সহজে ট্র্যাক করতে পারবে।

 

 

৩. রোগীকে ফুল কোর্স সম্পন্ন করার পরামর্শ: কেন এটি অত্যন্ত জরুরি?

 

অনেকে ২–৩ দিন ভালো লাগলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দেন।

এর ফলে:

 

  • ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি ধ্বংস হয় না
  • ‘মিউটেশন’ হয়ে আরও শক্তিশালী হয়
  • পরবর্তী সংক্রমণে কাজ করে না

 

 

এটাই AMR (Antimicrobial Resistance)

 

 

৪. রেড লেবেল ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি নয়

 

রেড লেবেল নির্দেশ করে—

এই ঔষধ কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে গ্রহণযোগ্য।

এটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।

 

 

৫. মেয়াদোত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক

 

নষ্ট বা পুরনো এন্টিবায়োটিক নদী-খাল বা জমিতে গেলে—

 

  • জীবাণু প্রতিরোধী হয়ে ওঠে
  • কৃষি উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়াল দূষণ বাড়ে
  • পরিবেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল দূষণ সৃষ্টি হয়

 

সেজন্য ফার্মেসীতে ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

 

এন্টিবায়োটিক সংকট: বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র

 

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৬৫% ফার্মেসীতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি হয়।

 

সাধারণ মানুষ নিজেরাই চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন—যা ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

 

শিশুদের মধ্যে অযৌক্তিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি।

DGDA-এর এই গণবিজ্ঞপ্তি তাই অত্যন্ত সময়োপযোগী।

 

 

রেফারেন্স / সূত্রঃ

 

  • ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA), গণবিজ্ঞপ্তি, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩
  • WHO – Antimicrobial Resistance Fact Sheets
  • ICDDR,B – Bangladesh AMR Surveillance Reports

সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর