বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) হলো দেশের চিকিৎসা পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যার দায়িত্ব চিকিৎসকদের নিবন্ধন, পেশাগত মান বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যখাতে পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত আলীকে ঘিরে নানা বিতর্ক, অযোগ্যতা, ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, যা চিকিৎসা খাতের স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠক মৃদুল হাসান।
মৃদুল হাসানের ভাষায়, “ডা. লিয়াকত ফ্যাসিস্ট জমানায় নৌকার মাঝি সেঁজেছিলেন। এখন পরিবর্তিত বাংলাদেশে খোলস পরিবর্তন করে তাবেদারির পোড়ামাটি নীতি বেছে নিয়েছেন।”
এই বক্তব্যে স্পষ্টতই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রেজিস্ট্রার লিয়াকতের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে, বরং রাজনৈতিক তাবেদারির সংস্কৃতি স্বাস্থ্য প্রশাসনেও প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে নানাবিধ সংকটে ভুগছে — চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ও অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা আগের মতো আর নেই।
ডা. লিয়াকতের নেতৃত্বে বিএমডিসির নীতিমালায় অসঙ্গতি, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতা, এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বহুবার এসেছে। এর ফলে পেশাজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক মান ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ মৃদুল হাসান বলেন —
“এই নৈরাজ্যকারী ফ্যাসিস্ট কুচক্রীকে দ্রুত অপসারণ পেশার স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।”
তার মতে, ডা. লিয়াকতের বর্তমান প্রশাসনিক ধারা হলো ‘পোড়ামাটি নীতি’ — যেখানে পেশাজীবীদের স্বার্থ, মর্যাদা ও সম্মানকে উপেক্ষা করে কেবল নিজের অবস্থান রক্ষার রাজনীতি চালানো হচ্ছে।
এ ধরনের নীতিনির্ধারণী প্রভাব বিএমডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে থাকলে পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ ব্যাহত হবে।
একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমডিসির দায়িত্ব হলো —
কিন্তু বাস্তবে এসব দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক রাজনীতি, অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকরণ, এবং দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য গবেষক ও সংগঠক মৃদুল হাসানসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ডা. লিয়াকতের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দ্রুত প্রশাসন থেকে অপসারণ করা জরুরি, যাতে স্বাস্থ্যখাতের পেশাগত স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়।
তাদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত সম্মান ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
স্বাস্থ্যখাতে পেশাজীবীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি, কার্যকর তদন্ত ও প্রশাসনিক সংস্কার অপরিহার্য।
রেফারেন্স / সূত্রঃ