বাংলাদেশে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো কমিউনিটি ক্লিনিক—একটি বিশ্বমানের মডেল, যা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এই সেবাকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী অবহিতকরণ সভা, যেখানে অংশ নেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৫৫০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি)।
গত বুধবার (১২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সিএইচসিপিদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা জানান, দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রথম স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের স্থান। এই ক্লিনিকগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা, সেবা সম্প্রসারণ, ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সিএইচসিপিদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রভাইডারদের সক্ষমতা উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধি বিষয়ক নানা দিক নিয়ে দিনব্যাপী গভীর আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন—
তাদের সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর বিভাগের বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, নাটোর ও গাইবান্ধা জেলার সিএইচসিপিরা অংশগ্রহণ করেন।
সিএইচসিপিরা কমিউনিটি ক্লিনিকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, রোগী দেখা, স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করে থাকে। প্রান্তিক অঞ্চলে চিকিৎসা ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় তাঁদের কার্যক্রম সরাসরি জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
সভায় বক্তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন—
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল এখন বিশ্বে আলোচিত একটি সফল উদাহরণ। তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে সিএইচসিপিদের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন—
“কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্য নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। সেবার মান ধরে রাখতে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ করা সময়ের দাবি।”
আলোচনায় উঠে আসে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক, যেমন—
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে এবং স্বাস্থ্যখাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জনে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রেফারেন্স / সূত্রঃ