সিএইচসিপিদের বেতন জটিলতা ও নেতৃত্ব সংকট: ১৬ মাসের ভোগান্তির দায় কার? — জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান
বাংলাদেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)—যারা দেশের সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে, যা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং নেতৃত্বের দুর্বলতা, নৈতিকতা সংকট, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং কাঠামোগত অসঙ্গতির বহুমাত্রিক ফল।
সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে—১৩,০০০+ সিএইচসিপির মধ্যে প্রায় ৬০০-এর বেশি কর্মী টানা ১৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না, যা একটি মানবিক, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ।
এই কর্মীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়লেও সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে প্রায় ৬ শতাধিক সিএইচসিপি নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। এর পেছনে মূলত দেখা যাচ্ছে—
১. প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতা
২. ট্রাস্ট ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা
কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট গঠনের পর পূর্বের কাঠামো ও নতুন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বণ্টনে গলদ তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
৩. মানবিক সংকট উপেক্ষা
বেতন না পেয়ে অনেক সিএইচসিপি—
এমতাবস্থায় লেখক সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসা ও তাৎক্ষণিক সমাধান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ১২ বছরে সিএইচসিপিদের একটি অংশ সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে—
এমন সুবিধাবাদী, দলীয় এজেন্ট, স্বার্থান্বেষী নেতাদের যোগাযোগ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কারণ তারা শুধু সংগঠনকে দুর্বল করেনি, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংকটকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
লেখকের পূর্ববর্তী পোস্টগুলোর নিচে দেখা গেছে কিছু সিএইচসিপির—
এটি শুধু আচরণগত সমস্যা নয়—বরং সিএইচসিপিদের একটি অংশের নেতৃত্বদক্ষতার বহুল ঘাটতি নির্দেশ করে। লেখক জানিয়েছেন—এ ধরনের আচরণকারীরা কোনো যোগাযোগ করবেন না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—
যারা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বা রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ছিলেন, তারা এই মুহূর্তে কোনোভাবেই যোগাযোগ করবেন না।
কারণ, নেতৃস্থানীয় একটি অবস্থানে নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য—যা তারা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই সংকটময় সময়ে প্রয়োজন—
যারা সত্যিকার অর্থে সিএইচসিপিদের অধিকার, মর্যাদা ও বেতন সংকট সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত—তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লক্ষ্য—১৬ মাস ধরে বেতন না পাওয়া কর্মীদের দুর্দশা দূর করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট রোধ করা।
সিএইচসিপিদের বেতন সংকট শুধুমাত্র প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি নেতৃত্বের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অপব্যবহার, দায়িত্বহীনতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র।
সমাধান প্রয়োজন—
এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বিক কার্যক্রম, তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উপপরিচালক (হাসপাতাল–১) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ
(ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত)