আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

সিএইচসিপিদের ১৬ মাসের বেতন সংকট ও নেতৃত্ব ব্যর্থতার গভীর বিশ্লেষণ: দায় কার এবং সমাধানের পথ কী?

সিএইচসিপি কর্মীদের বেতন সংকট ও নেতৃত্ব জটিলতার প্রতিচ্ছবি
১৬ মাস ধরে বেতনবঞ্চিত সিএইচসিপি কর্মীদের সংকট

সিএইচসিপিদের বেতন জটিলতা ও নেতৃত্ব সংকট: ১৬ মাসের ভোগান্তির দায় কার? — জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

 

বাংলাদেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)—যারা দেশের সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে, যা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং নেতৃত্বের দুর্বলতা, নৈতিকতা সংকট, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং কাঠামোগত অসঙ্গতির বহুমাত্রিক ফল।

 

সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে—১৩,০০০+ সিএইচসিপির মধ্যে প্রায় ৬০০-এর বেশি কর্মী টানা ১৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না, যা একটি মানবিক, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ।

 

এই কর্মীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়লেও সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

 

 

 

বেতন না পাওয়া ৬ শতাধিক সিএইচসিপির ১৬ মাস: সংকটের মূল কারণ কোথায়?

 

২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে প্রায় ৬ শতাধিক সিএইচসিপি নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। এর পেছনে মূলত দেখা যাচ্ছে—

 

১. প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতা

 

  • যোগ্যতা যাচাই, ডকুমেন্ট ভ্যালিডেশন, নিয়োগের শর্তাবলীতে অসঙ্গতি
  • জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি
  • নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব

 

 

২. ট্রাস্ট ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা

 

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট গঠনের পর পূর্বের কাঠামো ও নতুন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বণ্টনে গলদ তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

 

৩. মানবিক সংকট উপেক্ষা

 

বেতন না পেয়ে অনেক সিএইচসিপি—

 

  • পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে,
  • ঋণগ্রস্ত,
  • অনেকে অন্য কাজ খুঁজতে বাধ্য,
  • অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

 

 

এমতাবস্থায় লেখক সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসা ও তাৎক্ষণিক সমাধান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

দলীয় এজেন্সি, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ১২ বছরের নেতৃত্ব সংকট

 

গত ১২ বছরে সিএইচসিপিদের একটি অংশ সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

 

অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

 

  • সংগঠনের নামে ব্যক্তিগত ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • প্রশাসনের সঙ্গে সুবিধা আদায়ের গোপন সমঝোতা
  • নেতৃত্বের নামে বিভাজন সৃষ্টি
  • ট্রাস্টের আগে ও পরে ক্ষমতার অপব্যবহার
  • প্রকৃত সিএইচসিপিদের স্বার্থ উপেক্ষা

 

 

প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে—

এমন সুবিধাবাদী, দলীয় এজেন্ট, স্বার্থান্বেষী নেতাদের যোগাযোগ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

কারণ তারা শুধু সংগঠনকে দুর্বল করেনি, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংকটকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

 

 

 

অশালীন মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নেতৃত্বের অবক্ষয়

 

লেখকের পূর্ববর্তী পোস্টগুলোর নিচে দেখা গেছে কিছু সিএইচসিপির—

 

  • অশালীন ভাষা,
  • কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য,
  • ব্যক্তিগত আক্রমণ,
  • সংগঠনের অভ্যন্তরীণ উস্কানি।

 

 

এটি শুধু আচরণগত সমস্যা নয়—বরং সিএইচসিপিদের একটি অংশের নেতৃত্বদক্ষতার বহুল ঘাটতি নির্দেশ করে। লেখক জানিয়েছেন—এ ধরনের আচরণকারীরা কোনো যোগাযোগ করবেন না।

 

 

 

ফ্যাসিবাদী তৎপরতায় সহযোগীদের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—

যারা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বা রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ছিলেন, তারা এই মুহূর্তে কোনোভাবেই যোগাযোগ করবেন না।

 

কারণ, নেতৃস্থানীয় একটি অবস্থানে নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য—যা তারা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

 

 

নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সৎ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান

 

এই সংকটময় সময়ে প্রয়োজন—

 

  • নৈতিক নেতৃত্ব,
  • মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সিদ্ধান্ত,
  • প্রশাসনিক দক্ষতা,
  • সিএইচসিপিদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় অবস্থান।

 

 

যারা সত্যিকার অর্থে সিএইচসিপিদের অধিকার, মর্যাদা ও বেতন সংকট সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত—তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

লক্ষ্য—১৬ মাস ধরে বেতন না পাওয়া কর্মীদের দুর্দশা দূর করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট রোধ করা।

 

 

 

এখনই সিদ্ধান্তমূলক সময়

 

সিএইচসিপিদের বেতন সংকট শুধুমাত্র প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি নেতৃত্বের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অপব্যবহার, দায়িত্বহীনতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র।

 

সমাধান প্রয়োজন—

 

  • জরুরি আলোচনার উদ্যোগ
  • সুনির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত
  • নেতৃত্ব কাঠামোর সংস্কার
  • মানবিক সহায়তা
  • এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা।

 

 

এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বিক কার্যক্রম, তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

 

 

ডাঃ সৈয়দ আবু আহাম্মেদ শাফী

উপপরিচালক (হাসপাতাল–১) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ

(ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত)

 

 


সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর