দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করেন, আবার কেউ কেউ নাশতা করার পর ব্রাশ করতে পছন্দ করেন। এই দুই অভ্যাসের মধ্যে কোনটি বৈজ্ঞানিকভাবে বেশি উপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেন্টাল ও হেলথ এক্সপার্টদের একাধিক গবেষণায় এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাতে ঘুমানোর সময় আমাদের মুখগহ্বরে লালারসের উৎপাদন কমে যায়। এই সুযোগে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যার ফলে সকালে মুখে দুর্গন্ধ, আঠালো অনুভূতি বা পাতলা সাদা স্তর (plaque) তৈরি হয়। ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে মুখের এই ব্যাকটেরিয়াগুলো দূর হয়, যা দাঁত ও মাড়িকে রক্ষা করে।
মূল উপকারিতাগুলো হলো:
ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল নাশতার অ্যাসিডিক প্রভাব থেকে সুরক্ষা পায়।
ডেন্টাল জার্নাল অব আমেরিকা (Journal of the American Dental Association) অনুযায়ী, ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করলে মুখের পিএইচ লেভেল (pH level) দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, যা দাঁতের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, অনেকেই যুক্তি দেন যে, রাতে মুখ পরিষ্কার করলেও নাশতার পরে দাঁতে খাদ্যকণা থেকে যায়। তাই নাশতার পরে ব্রাশ করলে মুখ ও দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় এবং সারা দিনের জন্য শ্বাসতাজা থাকে।
মূল উপকারিতাগুলো হলো:
তবে নাশতার পরে সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করার কিছু সতর্কতা আছে। বিশেষত সাইট্রাস জাতীয় ফল (কমলা, লেবু), টমেটো বা জুসের মতো অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল নরম অবস্থায় ক্ষয় হতে পারে। ডেন্টাল হেলথ অর্গানাইজেশন (Oral Health Foundation, UK) পরামর্শ দেয়—অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর ব্রাশ করা উচিত। এতে এনামেল পুনরায় শক্ত হয় এবং ব্রাশের ঘর্ষণে ক্ষতির আশঙ্কা কমে।
বেশ কিছু ডেন্টাল এক্সপার্ট বলছেন, দুটি পদ্ধতিরই আলাদা উপকারিতা আছে, তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত দাঁতের ক্ষয় রোধ ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ।
বিকল্প ১: ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ করে নাশতা খাওয়া, এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা।
বিকল্প ২: প্রথমে নাশতা খাওয়া, তারপর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করা।
উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিদিন দু’বার ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া ঘুমানোর আগে রাতে ভালোভাবে ব্রাশ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের দাঁত সাধারণত তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল। তাদের ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার পরই ব্রাশ করানো ভালো। এতে প্লাক দূর হয় এবং দাঁত ক্ষয় থেকে সুরক্ষিত থাকে। তবে তারা যদি নাশতার পরে ব্রাশ করতে চায়, তবে নিশ্চিত করুন যে অ্যাসিডিক খাবারের পর যথেষ্ট সময় অপেক্ষা করা হয়েছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ করা হোক বা নাশতার পরে, মূল বিষয় হলো দাঁতের যত্নে নিয়মিততা বজায় রাখা। ডেন্টাল বিশেষজ্ঞরা বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন এবং সেটি অনুসরণ করুন।” সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা, ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার, ফ্লসিং এবং নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপই সুস্থ দাঁত ও মাড়ির চাবিকাঠি।