শুধু যে শীতেই হাঁসের মাংস ভুনা খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। হংসপ্রেমীদের জন্য সারাবছর তেলে–ঝালে ভরপুর হাঁসভুনা মেলে, নীলামাকেটসহ ৫ টি জায়গায়
চিতই কিংবা ছিটা রুটি দিয়ে ঘন ঝোলে ডুবিয়ে হাঁসের মাংস স্বাদগ্রন্থি হয়ে মস্তিষ্কের নিউরনে যে অদ্ভুত আলোড়ন তোলে, তার তুলনা আর কিছুর সঙ্গে করা সম্ভব না। অনেক ভোজনরসিক বলে থাকেন, যিনি হাঁসের মাংস খাননি, তিনি মাংসের আসল স্বাদই পাননি। যা–ই হোক, খাবার নিয়ে তো তর্কবিতর্ক চলতেই থাকবে। এদিকে, শুধু যে শীতেই হাঁসের মাংস ভুনা খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। হংসপ্রেমীদের জন্য সারাবছর তেলে–ঝালে ভরপুর হাঁসভুনা মেলে, ঢাকার এমন পাঁচটি রেস্টুরেন্টের সন্ধান রইল আজ।

১. নীলা মার্কেট , ৩০০ ফিট
লাকড়ির চুলায় ধোঁয়া ওঠা হাঁসের মাংস আর চাপ্টির সঙ্গে ঝাল ভর্তা ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় অনেককে। খুব কাছেই এ জায়গা। এক সন্ধ্যায় চলে যেতে পারেন ৩০০ ফিট নীলা বাজারে। রাঁধুনি মাটির চুলায় রান্না করেন এখানে। মেনুতে থাকে হাঁসভুনা, গরুভুনা, ধনেপাতা, চ্যাপা শুঁটকি, লইট্যা শুঁটকি আর টমেটোভর্তা। মাংসের দাম পড়বে প্লেটপ্রতি ২৫০ টাকা, ভর্তা ১০ টাকা আর চাপ্টি-রুটি ১০ টাকা। ডিম দেওয়া স্পেশাল চাপ্টি ৩০ টাকা। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই হেঁশেল। এ ছাড়া সীমা আপার দোকানে পাওয়া যায় বেশ ঝাল স্বাদের হাঁসের মাংস। সঙ্গে থাকে কুমড়া ফুলের বড়া।
কুড়িল বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড থেকে বিআরটিসি বাসে ৩০ টাকায় আপনি যেতে পারবেন নীলা বাজার মোড়ে। সেখান থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটাপথে নীলা বাজার। চাইলে বাসের বদলে আপনি অটো রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন কুড়িল বিশ্বরোড থেকে। আর গাড়ি থাকলে সরাসরি চলে যেতে পারবেন এখানে।
২. উঠান বৈঠক
মিরপুর ডিওএইচএসে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে উঠান বৈঠক নামের এই পিঠার দোকান হাঁসের মাংস দিয়ে ছিটা পিঠার জন্য বিখ্যাত। এ ছাড়া পাটিসাপটা, পোয়া পিঠা, চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা পাওয়া যায় ২০–৩০ টাকায়।
৩. হংস মাংস
মহানগর প্রজেক্টে নুসরাত লিজার অনলাইন উদ্যোগ হংস মাংস কেবলমাত্র আস্ত রসুন দেওয়া স্পেশাল রেসিপিতে হাঁসের মাংসই বিক্রি করে থাকে। ‘একা খাব’, ‘দুজনে আমরা’ ইত্যাদি নামে চার রকমের প্যাকেজ আছে। মিলবে ১৯৯, ৫৯৫, ১১৮৫ ও ২৩৮০ টাকায়। নুসরাত জানালেন তাঁদের হাঁস রান্নায় নারকেলের দুধ ব্যবহার করা হয় না। আস্ত রসুন হচ্ছে তাঁদের বিশেষত্ব এবং তাঁরা কেবলমাত্র চিনা হাঁস দিয়ে রান্না করে থাকেন। ঢাকার মহানগর প্রজেক্ট (হাতিরঝিল) থেকে পিক করলে কোনো ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে না। হোম ডেলিভারির জন্য পাঠাও, উবার বা কুরিয়ারে যা আসবে, তাই ডেলিভারি চার্জ। ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে অর্ডার করতে হবে। ইতিমধ্যে দারুণ স্বাদের জন্য ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই হংস মাংস উদ্যোগ।

৪. উত্তরা দিয়াবাড়ি
বিকেলবেলা এখানে বসে প্রচুর খাবারের দোকান। এখানে কাজল আক্তারের দোকানে পাওয়া যায় হাঁসের মাংস আর চালের রুটি। বেলা ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই দোকান। প্লেটপ্রতি ২০০ টাকা, ২২০ টাকা আর লেগ পিস দিলে ২৫০ টাকা। চালের রুটি ১০ টাকা, হাঁসের ডিম দিয়ে ৫০ টাকা, মুরগির ডিম দিয়ে ৪০ টাকা, ঝাল চাপড়ি ৩০ টাকা। চিনা হাঁস ও দেশি হাঁস রান্না হয় এখানে।
৫. মিরপুর ১২
ইনফিনিটি মেগা মলের সামনে একটি দোকান বসে, যা ভাসমান। রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই দোকান। এখানকার হাঁসের মাংসে এমন সুগন্ধ থাকে, যা ক্ষুধার উদ্রেক করে। প্রতি প্লেট ১০০ টাকা হাঁসের ভুনা। এ ছাড়া গরু, মুরগি, খিচুড়ি আর ভাত পাওয়া যায় এখানে। মো. রনি ইসলামের মায়ের হাতের রান্না বিক্রি হয় এই দোকানে। ভাত খিচুড়ি একসঙ্গে নিলে পড়বে ১৩০ টাকা।
হাঁসের মাংস একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটি সাধারণ মাংসের তুলনায় কম চর্বিযুক্ত এবং ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। তবে, বাজারে সব ধরনের হাঁসের মাংস স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই, সঠিক উৎস থেকে স্বাস্থ্যকর হাঁসের মাংস কেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
1. অর্গানিক বা খামার-পদ্ধতিতে লালিত হাঁস:
স্বাস্থ্যকর হাঁসের মাংস পেতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অর্গানিক বা খামার-পদ্ধতিতে লালিত হাঁস কেনা। এই ধরনের হাঁসকে রাসায়নিক বা হরমোন-মুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়।
2. বিশ্বস্ত মাংস সরবরাহকারী:
বাজারে অনেক মাংস বিক্রেতা আছে, কিন্তু বিশ্বস্ত ও পরিচিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে মাংস কেনা উচিত। তারা সাধারণত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হাঁস বিক্রি করে।
3. সার্টিফিকেট যাচাই:
সরকারি বা প্রাইভেট লেবেলযুক্ত হাঁসের মাংস কিনলে মান যাচাই সহজ হয়। “হালাল”, “অর্গানিক” বা “হিউম্যানলি ফার্মড” সার্টিফিকেট খেয়াল করা দরকার।
4. স্থানীয় খামার বা ফার্ম:
অনেক স্থানীয় খামার সরাসরি গ্রাহকের কাছে হাঁস বিক্রি করে থাকে। এতে হাঁসের খাদ্য ও বৃদ্ধির পদ্ধতি জানা থাকে এবং আপনি স্বাস্থ্যকর মাংস নিশ্চিতভাবে পেতে পারেন।
5. মাংসের গুণমান পরীক্ষা:
রঙ: স্বাভাবিকভাবে হালকা গোলাপী থেকে লালচে।
গন্ধ: তাজা মাংসের গন্ধ হালকা, কোনো অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ নেই।
টেক্সচার: মাংস দৃঢ় কিন্তু নরম।
প্রোটিন সমৃদ্ধ, যা পেশী বৃদ্ধিতে সহায়ক।
কম চর্বিযুক্ত, যা হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো।
ভিটামিন B, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ।
স্বাস্থ্যকর হাঁসের মাংস খুঁজতে হলে নির্ভরযোগ্য খামার, অর্গানিক লেবেল এবং মান পরীক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিন নিশ্চিত হবে।
Reference:
1. FAO, “Poultry Meat and Health Benefits”, 2023
2. WHO, “Nutrition Facts on Poultry”, 2022
3. Local Organic Farms, Bangladesh