অবাক করা ৫ উপকারিতা জানলে আজ থেকেই বেশি বেশি খাবেন এই পুষ্টিতে ঠাসা হার্ব
ধনেপাতা প্রাচীনকাল থেকেই রান্না ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টিগুণের কারণে এটি বিভিন্ন দেশীয় খাবারে জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, ধনেপাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ধরনের উপকার নিয়ে আসে।
এই হার্বটি শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, বরং এতে আছে নানা পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণাগুণ। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ভেষজ পাতা স্বাস্থ্যের জন্য প্রমাণিত উপকারী।

ধনেপাতা (বৈজ্ঞানিক নাম: কোরিয়ানড্রাম স্যাটিভাম) একটি জনপ্রিয় ভেষজ উদ্ভিদ, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী রান্নায়, সালাদে ও ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর সুগন্ধি পাতা শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং এর পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্যের নানা উপকার করে থাকে। এই উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। নিচে ধনেপাতা খাওয়ার মজার তথ্য, এর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ধনেপাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর; ফলে একে সুপারফুড হিসেবেও গণ্য করা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা ধনেপাতায় নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়:
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ধনেপাতায় কোয়ারসেটিন, কেম্ফেরল ও বিটাক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে।
ধনেপাতা পেট ফাঁপা, গ্যাস ও হজমের সমস্যা দূর করতে সহায়ক। এতে থাকা লিনালুল ও বোর্নিওল পাকস্থলীতে পিত্তরস নিঃসরণ বাড়ায় এবং পরিপাক এনজাইম সক্রিয় করে। ধনেপাতার নির্যাস ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (IBS) উপসর্গও কমাতে পারে।
ধনেপাতায় ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। কোয়ারসেটিন ও কেম্ফেরল ফ্রি র্যাডিকেল দূর করে, কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যানসার বা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
ধনেপাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ত্বকের সংক্রমণ ও প্রদাহ কমায়। সিনিওল ও লিনোলিক অ্যাসিড যৌগ ব্রণ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বক সমস্যা দূর করে।
ধনেপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। এর পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় ও গ্লুকোজ শোষণ কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ধনেপাতার নির্যাস ডায়াবেটিক ইঁদুরে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
ধনেপাতা শরীর থেকে সিসা ও পারদের মতো ভারী ধাতু দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্লোরোফিল কেলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টক্সিন শরীর থেকে বের করে দেয়।

বাংলাদেশে মাছ, মাংস, ডাল, ভর্তা, চাটনি, সালাদ ও স্যুপে ধনেপাতা ব্যবহৃত হয়। এটি খাবারে সুগন্ধ ও স্বাদ যোগ করে এবং হজমে সহায়ক।
ধনেপাতার গন্ধ কিছু মানুষের কাছে সুগন্ধি মনে হলেও অন্যদের কাছে সাবানের মতো মনে হতে পারে। এটি OR6A2 নামক জিনের বৈচিত্র্যের কারণে ঘটে। এই জিন অ্যালডিহাইড যৌগের প্রতি সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে, যা ধনেপাতায় প্রচুর পরিমাণে থাকে।
প্রাচীন মিসরে ধনেপাতা ও বীজ ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তুতেনখামেনের সমাধিতে ধনের বীজ পাওয়া গেছে। ধনেপাতার এসেনশিয়াল অয়েলে ৬০–৮০% লিনালুল থাকে, যা অ্যারোমাথেরাপিতে উদ্বেগ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
কিছু মানুষের ধনেপাতায় অ্যালার্জি হতে পারে, যা ত্বকে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত ধনেপাতা গর্ভবতী নারীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এটি ইউটেরিন সংকোচনকে উদ্দীপিত করতে পারে।
উপকরণ: ১ কাপ ধনেপাতা, ২–৩টি কাঁচা মরিচ, ১ কোয়া রসুন, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: সব উপকরণ ব্লেন্ডারে পিষে নিন, প্রয়োজনে সামান্য পানি মেশান। ভাত, খিচুড়ি বা স্ন্যাকসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
এই চাটনিতে ধনেপাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং কাঁচা মরিচের ক্যাপসাইসিন হজমশক্তি বাড়ায় ও বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
উপসংহার: ধনেপাতা শুধু একটি সুগন্ধি মসলা নয়, বরং এটি পুষ্টিগুণ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি গুণে ভরপুর। হজমশক্তি বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের যত্ন ও বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণে এটি সহায়ক। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।