“বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড অধ্যাদেশ, ২০২৫” সংশোধিত খসড়া বিষয়ে ডি-ম্যাব-এর অবস্থান
ন্যাচারাল মেডিকেল রিপোর্ট:
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের অন্যতম সংগঠন ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ম্যাব) সম্প্রতি “বাংলাদেশ অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড অধ্যাদেশ, ২০২৫”-এর সংশোধিত খসড়া নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে পেশাজীবীদের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা ও অসঙ্গত নাম ব্যবহারের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যা সংশোধন না হলে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
ডি-ম্যাব হলো সেই পেশাজীবী সংগঠন, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ (State Medical Faculty of Bangladesh) থেকে ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (DMF) ডিগ্রি অর্জনকারী চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করে। এই চিকিৎসকরা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BM&DC) কর্তৃক নিবন্ধিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্র্যাকটিশনার, যারা BM&DC Act 2010-এর ৬১ নং আইন অধীনে অন্তর্ভুক্ত।
তারা বাংলাদেশ সরকারের অধীন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) পদে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পরিবার কল্যাণ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আছেন।
ডি-ম্যাব তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে আসছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দাবি করছে।
ডি-ম্যাব-এর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার ২০০৬ সাল থেকেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তৎকালীন সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ)-এর মধ্যে “মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ” নামে বোর্ড গঠনের একটি দালিলিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় — যার কপি বর্তমানে সংগঠনের নথিতে সংরক্ষিত আছে।
পরে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনাব মো. সাজ্জাদুল হাসান, উপসচিব স্বাক্ষরিত স্মারক নং ০৪.০০.০০০০.৪১৬.৯৯.০০১.১৯.১৩৩৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগকে বোর্ড গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখা থেকে প্রেরিত স্মারক নং ৫৯.০০.০০০০.১৪১.৯৯.০০১.২২ (অংশ-১)-৫৩৫ অনুযায়ী বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে “মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ” নির্ধারণের জন্য মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বোর্ডের নাম “The State Medical Board of Bangladesh” হিসেবে বিবেচনার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া ২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দুই সচিব—ডা. মো. সারোয়ার বারী (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ) এবং মো. সাইদুর রহমান (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ)—স্বাক্ষরিত “Note of Discussion”-এ বোর্ডের নাম পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থী সংগঠনের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
ডি-ম্যাব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের দাবি ও প্রস্তাবনাগুলো চারটি মূল বিষয়ের ওপর তুলে ধরে—
বোর্ডের নামকরণ সংক্রান্ত দাবি:
সরকারের দালিলিক প্রতিশ্রুতি অনুসারে বোর্ডের নাম হতে হবে—
অথবা
অথবা
অধ্যাদেশের ধারা ও উপধারা সংশোধন:
ডি-ম্যাব প্রস্তাব করেছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে এমন কিছু ধারা ও উপধারা রয়েছে যা পেশার প্রকৃতি ও অধিকার সুরক্ষার পরিপন্থী। এসব ধারা/উপধারা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
BM&DC রেজিস্ট্রেশন বজায় রাখার নিশ্চয়তা:
ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের জন্য BM&DC কর্তৃক প্রদত্ত পেশাগত রেজিস্ট্রেশন সনদ প্রদান অব্যাহত থাকবে — অধ্যাদেশে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ডি-ম্যাব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ:
প্রস্তাবিত বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ)-এর সভাপতি ও মহাসচিবকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ডি-ম্যাব জানায়, বোর্ডের প্রস্তাবিত খসড়ায় পেশার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নাম ও ধারা থাকলে তারা শান্তিপূর্ণ রাজপথের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তারা বলেন—
“যাদের জন্য বোর্ড গঠন করা হচ্ছে, তাদের মতামত উপেক্ষা করা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা পেশাজীবীদের স্বার্থবিরোধী অধ্যাদেশ প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে আহ্বায়ক মো. শহীদুল্লাহ সিদ্দিকী ও সদস্য সচিব মো. হামিদুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশের সব গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন—
“জনস্বার্থে এই বিবৃতিটি প্রকাশ করে জনগণ ও পেশাজীবীদের অবহিত করার অনুরোধ করছি।”
আহ্বায়ক: মো. শহীদুল্লাহ সিদ্দিকী
সদস্য সচিব: মো. হামিদুল ইসলাম ভূঁইয়া
সংগঠন: ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ম্যাব), কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
তারিখ: ২২ অক্টোবর ২০২৫
স্মারক নং: ডি-ম্যাবকেকাপ/২০২৫/১২
রেফারেন্স / সূত্রঃ