অন্তবর্তীকালীন সরকারের “এ্যালাইড হেলথ প্রফেশনালস বোর্ড” গঠনের উদ্যোগকে ডিপ্লোমা মেডিকেল জাতির ধ্বংসের নীলনকশা আখ্যা দিয়ে সাধারণ মেট্রিক শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যশিক্ষা কাঠামোতে নতুন করে “এ্যালাইড হেলথ প্রফেশনালস বোর্ড” নামে বোর্ড গঠনের যে উদ্যোগ অন্তবর্তীকালীন সরকার গ্রহণ করেছে, তা ডিপ্লোমা মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (DMF)-এর অস্তিত্বকে চরম সংকটে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সমন্বয়ক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যের বিকল্প নাই। এ্যালাইড হেলথ প্রফেশনালস বোর্ড গঠন মানেই ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার ধ্বংসের নীলনকশা বাস্তবায়ন।”
এই প্রস্তাবিত বোর্ড কার্যত ডিএমএফ জাতিকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিলুপ্তির পথে নিয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য হলো ডিপ্লোমা মেডিকেল পেশাজীবীদের অধিকার, স্বীকৃতি ও চাকরির কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছি। এখনো সেই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও একটি নতুন বোর্ড গঠন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণরূপে ডিএমএফ পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রতারণা।”
তিনি আরও জানান, “ডিএমএফ পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, স্বীকৃতি, পদোন্নতি এবং জাতীয় স্বাস্থ্যখাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সংরক্ষণের জন্য আলাদা বোর্ডই একমাত্র সমাধান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি দেশজুড়ে ডিএমএফ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।
“এখনই সময় — আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি সরকার এ্যালাইড হেলথ প্রফেশনালস বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। জাতির অস্তিত্ব ও ডিএমএফদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার ডিএমএফদের ভূমিকা ক্ষুণ্ণ করতে চায়।
স্বাস্থ্যখাতের অনেক বিশেষজ্ঞও মত প্রকাশ করেছেন যে, আলাদা বোর্ড ছাড়া ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।
ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে বরং তা দুর্বল করার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সবশেষে, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি — ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই আমাদের মুক্তির পথ। ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।”