ডিএমএফ ডিপ্লোমাধারীদের বেকার সংকট—রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অভাবে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে পরিস্থিতি
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিএমএফ (Diploma in Medical Faculty), উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ টেকনিক্যাল ডিপ্লোমাধারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদদের অন্যতম। দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় এরা দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে পিছিয়ে। প্রতিবছর হাজারো ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী পাশ করলেও তাদের নিয়োগ, পদসৃজন বা কর্মপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পূর্বপরিকল্পনা এখনো দৃশ্যমান নয়।
এই দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যা নিয়ে এবার শক্ত অবস্থান তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল – ১), ডাঃ সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী। তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে ডিএমএফ ডিপ্লোমাধারীদের বেকারত্ব, হতাশা, কর্মসংস্থান সংকট এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার ঘাটতিগুলোর বাস্তবচিত্র।
ডি-ম্যাব (DMAB) এর প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি এই স্ট্যাটাসটি পোস্ট করেন। তারা কিছুটা তাকে দেখতে এবং বাকিটা দেশের বহুসংখ্যক বেকার ডিএমএফ শিক্ষার্থী ও যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন।
ডাঃ শাফী লিখেছেন—
“অশিক্ষিত বেকারের কস্ট কম, কারণ সে যে কোনো কাজেই যুক্ত হতে পারে। সমস্যায় থাকে শিক্ষিত বেকারেরা, কারণ তারা যা শিখেছে তার বাইরে অন্য কাজ করার অভ্যস্ততা তারা হারিয়ে ফেলে।”
এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, টেকনিক্যাল স্বাস্থ্যশিক্ষার শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পায় না, তাদের দক্ষতা যেমন নষ্ট হয়, তেমনি সমাজে বাড়ে হতাশা, আর্থিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডিএমএফ পাশ করে। বিষয়টি সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয় সকলেই অবগত। তবে, এখনো—
— এসব বিষয়ে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
ডাঃ শাফী বলেন —
“এই টেকনিক্যাল ডিপ্লোমাধারীদের নিয়ে সরকারের কর্ম পরিকল্পনা কি, কোন কোন সেক্টরে এদের জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান করা হবে, এসব বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।”
ডিএমএফ, ডিএমএ বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেকারত্ব শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি এখন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা।
চাকরি না থাকায়—
—এইসব জটিলতা তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ডাঃ শাফী গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন—
“বলাবলিতে পেট ভরেনা, পরিবার চলেনা। এরা তো আমাদেরই দেশের সন্তান।”
ডিএমএফ প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। কিন্তু তাদের জন্য যথাযথ চাকরি না থাকায় এই মানবসম্পদ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ডাঃ শাফী জোর দিয়ে বলেন—
“রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ এই ডিপ্লোমাধারী বেকারদের বিষয়ে যথাসম্ভব দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, পদসৃজন এবং নিয়োগের উদ্যোগ নিবেন—এটাই প্রত্যাশা।”
১. ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় টেকনিক্যাল জনবল অপরিহার্য
টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল রিপোর্টিং, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র—সবখানে ডিএমএফদের ভূমিকা দেওয়া হলে স্বাস্থ্যসেবায় গতি আসবে।
২. বিদেশে স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্য, মালদ্বীপ, আফ্রিকা—অনেক দেশে টেকনিক্যাল স্বাস্থ্যকর্মীর বড় বাজার রয়েছে।
৩. দেশে কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা সম্ভব
এসব জায়গায় ডিএমএফদের দক্ষতা ব্যবহার করা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে।
৪. বেকারত্ব কমলে সামাজিক অস্থিরতাও কমবে
বেকার যুবসমাজ দেশে অস্থিরতা তৈরি করে; তাই তাদের কর্মসংস্থান দেশের জন্যই কল্যাণকর।
ডিএমএফ ডিপ্লোমাধারীরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্র যদি এখনই সুস্পষ্ট নিয়োগ কাঠামো তৈরি না করে তবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে এবং দক্ষ মানবসম্পদ নষ্ট হবে। ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর এই স্ট্যাটাস সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাকে নতুন আলোচনায় এনে দিয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রেফারেন্স/সূত্রঃ