ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রে ডিএমএফ পেশাজীবীরা আজ তৃণমূল স্তরের অন্যতম শক্তি এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবাদানকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের নিকটতম চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মসূচি বাস্তবায়নসহ সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমএফদের ভূমিকা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে ডিএমএফদের ন্যায্য অধিকার ও বৈধ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদ।
ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদ জানিয়েছে—একজন ডিএমএফের প্রথম ও প্রধান পরিচয় হলো তার ডিএমএফ পরিচয়। মতাদর্শ, ব্যক্তিগত পরিচয়, দল-উপদল, কিংবা যে কোনো গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই পরিচয়ই ডিএমএফদের ঐক্যের ভিত্তি ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রধান শক্তি। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় কল্যাণ ও পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ডিএমএফদের ঐক্য আজ সময়ের দাবি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক কল্যাণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে ডিএমএফদের যৌক্তিক নিয়োগ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ, মাঠের অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবামূলক দায়িত্ব পালন করে আসার পরও ডিএমএফরা কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত—যা সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলনকে নতুন জোর দিয়েছে।
ডিএমএফ পেশাজীবীরা বছরের পর বছর দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম প্রধান সেবাদাতা হিসেবে কাজ করছেন। দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, মানবসম্পদ স্বল্পতার সময়ও নিরলসভাবে রোগী সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তাসহ অসংখ্য জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
স্বাস্থ্যখাতে ডিএমএফদের কার্যকর ভূমিকা নীতিনির্ধারকদের কাছেও সুস্পষ্ট। তাই তাদের দাবি—“উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” শূন্য পদে যথাযথ নিয়োগপ্রাপ্তি—শুধু ডিএমএফদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনকে, যার মধ্যে রয়েছে—
এবং তৃণমূল পর্যায়ের অসংখ্য ডিএমএফ ও শিক্ষার্থী সংগঠন
তবে পরিষদ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে—মূল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ডিএমএফ পরিচয়। কারণ এই পরিচয়ই সকলকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে, বিভেদ দূর করে এবং আন্দোলনকে সর্বোচ্চ শক্তি জোগায়।
সকল সংগঠনের মতামত ও আলোচনা শেষে ইতোমধ্যেই আন্দোলন পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, মাঠপর্যায়ে সংগঠন গঠন, সমন্বয় এবং যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেসব ডিএমএফ এখনো ঐক্য প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হননি—তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে, এবং খুব শিগগিরই তাদের বৃহত্তর পরিসরে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিষদ মনে করে—ডিএমএফদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে মতবিরোধ, ব্যক্তিগত অভিমান কিংবা গ্রুপিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় স্বার্থ ও পেশাগত নিরাপত্তার স্বার্থে একত্রে দাঁড়ানোই আজকের বাস্তব প্রয়োজন।
ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদ বলেছে—
“আমরা কেউ কারো পর নই; আমরা সকলেই এক পরিবার—ডিএমএফ পরিবার। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ন্যায্য অধিকার আদায় এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
অতএব, আগামীর ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ বাস্তবায়ন এবং পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষায় প্রত্যেক ডিএমএফকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।
রেফারেন্স / সূত্র
১. ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিবৃতি
২. আন্দোলন পরিচালনা পরিষদের মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট
৩. ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সমর্থন জানানো ঘোষণা