ডিএমএফদের চলমান নিয়োগ সংকট: সমস্যার মূল, নিয়োগ বিধিমালাহীন বাস্তবতা ও অবিলম্বে সমাধানের দাবি
বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাসিলিটেশন (DMF) শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় সংকট হলো—নিয়োগ বিধিমালা না থাকা। এই একমাত্র কারণে হাজারো দক্ষ ডিএমএফ পেশাজীবী বছরের পর বছর বেকারত্বে ভুগছেন। স্বাস্থ্যখাতে মধ্যম-পর্যায়ের সেবা প্রদানকারী হিসেবে ডিএমএফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসংগঠিত না হওয়ায় এই সেক্টরটি ক্রমেই সংকটে পড়ছে।
১৯৯৬ সালের নিয়োগ বিধিমালায় ডিএমএফদের পদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যে নতুন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয় সেখানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) পদটি বাদ দেওয়া হয়, যা ডিএমএফদের জন্য বিরাট এক আঘাত ছিল। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং হাজারো শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের লাগাতার আন্দোলন, গণসমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ইত্যাদির চাপের পর সরকার নন-মেডিকেল নিয়োগ বিধিমালা থেকে SACMO পদটিকে আলাদা করে নতুন নিয়োগ বিধিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি ডিএমএফদের দীর্ঘ সংগ্রামের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
নিয়োগ বিধিমালা থাকলে যে সুবিধাগুলো তৈরি হবে
একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—১৫ বছর আগে যে শিক্ষার্থীরা নিজের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ মনে করেছিল, তারা কেউই ভাবেনি যে নিয়োগ নিয়ে এভাবে ধ্বংস হবে পুরো প্রজন্ম।
অনেকের আজ চাকরির বয়স শেষ।
তারা মনে করতেন—
“নিয়োগ এবং নিয়োগ বিধিমালা আমাদের দাবি নয়। সরকার নিশ্চয়ই করবে।”
কিন্তু ইতিহাস বলছে—
সরকার কখনোই কোনো দাবি পূরণ করে না যতক্ষণ না সে গোষ্ঠীর মানুষরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে।
ডিএমএফরাও এর ব্যতিক্রম নয়।
আজ যদি বর্তমান শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা একই উদাসীনতা দেখায়, তবে এই গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ আরও সংকটে পড়বে।
তাই এখনই প্রতিটি ডিএমএফ শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও বেকার সদস্যকে বুঝতে হবে—
“নিয়োগ ছাড়া এই গোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকবে না।”
এটি শুধু দাবি নয়, একটি কঠিন বাস্তবতা।
ডিএমএফ গোষ্ঠী এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে—
এই পরিস্থিতিতে বেকার ডিএমএফ, চাকরি প্রত্যাশী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে মাঠে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং ডিএমএফ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা–পেশাগত গোষ্ঠীকে বাঁচাতে আন্দোলনই এখন প্রধান হাতিয়ার।
ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট সমাধান একটি জরুরি জাতীয় প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদকে অব্যবহৃত রেখে দেওয়া চলতে পারে না।
নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন এবং নিয়মিত নিয়োগ—এই দুটি বিষয়ই ডিএমএফদের ভবিষ্যৎ, মর্যাদা এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সমন্বয়ক
সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
রেফারেন্স / সূত্র