ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের (ডিজি) পরিদর্শনকালে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখন দেশের স্বাস্থ্য–অঙ্গনের আলোচিত ঘটনা। জরুরি বিভাগ ও ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনের সময় এক চিকিৎসকের মন্তব্য, আচরণ ও উত্তেজিত প্রতিক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি জনমহলে যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি চিকিৎসা শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক আচরণ ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিশুদের মূত্রাশয় ও প্রজননতন্ত্র সংক্রান্ত রোগের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারে অংশ নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান। সেমিনার শুরুর আগেই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করতেই ডিজির নজরে পড়ে একটি “টেবিল”। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক ধনদেব বর্মণ ব্যাখ্যা করেন— লেখালেখির প্রয়োজনে টেবিলটি রাখা হয়েছে।
সেখানেই কথোপকথনের ধারাবাহিকতায় পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ডিজি চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলেন,
“আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন—কথাবার্তা হুঁশ করে বলবেন।”
এই মন্তব্যের পরপরই ডিজি তাঁর সঙ্গে থাকা লোকদের ঘটনাটি ভিডিও করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন,
“যারা ডিজির সঙ্গে এমন ব্যবহার করে, তারা রোগীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে—তা অনুমান করা যায়।”
ডিজির বক্তব্যের উত্তরে চিকিৎসক ধনদেব বলেন,
“আমি রোগীর সঙ্গে অনেক ভালো বিহেব করি; কিন্তু যারা দায়িত্বে আছে তাদের সঙ্গে আমার বিহেব ভালো না।”
এখান থেকেই কথোপকথন আরও তীব্র হয়। চিকিৎসক সম্প্রদায়ের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন— দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভুক্তভোগী হয়। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন—
“ঢাকায় তিন দিনের ট্রেনিং করলাম। আপনার দুদিন থাকার কথা ছিল—একদিনও আসেননি।”
এই মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
‘আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম’— উত্তেজনার চরমে চিকিৎসক
উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে চিকিৎসক ধনদেব বর্মণ উত্তেজিত হয়ে বারবার বলতে থাকেন,
“আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম।”
চিকিৎসকের এই অবস্থান দেখে পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নেয়।
অবস্থা সামাল দিতে এগিয়ে আসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস ও উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম। তাঁরা দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কথোপকথনের উত্তাপ কমেনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিজি ডা. আবু জাফর। বলেন—
ময়মনসিংহ শিশু হাসপাতালের অর্ধসমাপ্ত নির্মাণকাজ সম্পর্কে ডিজি বলেন,—
সেমিনারে বক্তব্য দেন—
পরিদর্শনের পর কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক ধনদেব বর্মণকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসক ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
এ ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আচরণগত দক্ষতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব, পেশাদারী বিনয় এবং মানবিকতা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ—তা আবারও সামনে এনে দিয়েছে।