গ্রামবাংলার চিরচেনা এই ফলটির ফুল দেখা যায় না। এ নিয়ে অনেক কথা হলেও ফলটির অনন্য সব স্বাস্থ্যগুণ আর পুষ্টিগুণ নিয়ে তেমন কথাই হয় না।

গ্রামবাংলার চিরপরিচিত একটি ফল হলো ডুমুর। এই ফলের উৎপত্তিস্থল দক্ষিন এশিয়াতেই। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে নানা রোগ নিরাময়ে ডুমুরকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ডুমুর দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মূলত এর ভেষজ গুণের জন্যই বেশি পরিচিত। ডুমুর বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে এখনো খাবার হিসেবে তেমন জনপ্রিয় নয়। তবে বেশ কিছু অঞ্চলে ডুমুর কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। ডুমুর প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারে ভরপুর। এসব উপকারিতা পেতে সবজি, সালাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে এই ফলটিকে খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই ফলের কী কী উপকারিতা রয়েছে।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করেঃ
ডুমুরে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পটাসিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাগে আনে। খাবারের তালিকায় ডুমুর রাখলে রক্তনালীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর।

ত্বক ও চুল ভালো রাখেঃ
ডুমুরে রয়েছে ভিটামিন সি আর বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। সেই সঙ্গে এটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো নতুনভাবে তৈরি হতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে। পাশাপাশি ডুমুরে থাকা জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই খাবারের তালিকায় ডুমুর রেখে পেতে পারেন সুন্দর চুল ও ত্বক।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ
ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে। ফাইবার অন্ত্রে পানির শোষণ বাড়ায়। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তারাও ভালো ফল পেতে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন ডুমুর।
ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ
ডুমুরে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে, যা ওজন কমানোর জন্য বেশ কার্যকর। এছাড়া ডুমুরে থাকা ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয় না। এছাড়া, এতে থাকে পানি ও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ। এগুলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়ঃ
ডুমুরে থাকা মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। এটি গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাও বাড়ায়। ডুমুর ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
ডুমুরের পুষ্টিগুণঃ
ডুমুরে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, সি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে।একটা মাঝারি টাটকা ১০০গ্রাম ডুমুরে খাদ্যশক্তির পরিমান ক্যালোরি:
৩৭ফ্যাট: ০.২ গ্রাম
সোডিয়াম: ০.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৯.৬ গ্রাম
ফাইবার: ১.৪৫ গ্রাম
প্রাকৃতিক চিনি: ৮.১৫ গ্রাম
প্রোটিন: ১.৩ গ্রাম
সতর্কতা
ডুমুরের তেমন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে এটি অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। বিশেষভাবে যাদের ল্যাটেক্স বা বার্চ পরাগে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
সারসংক্ষেপঃ
ডুমুর একটি পুষ্টিকর ফল, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ত্বক-চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
ডুমুর শুধু মজাদার ফল নয়, বরং এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বক-চুলের যত্নে সহায়ক। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।