ঘন ঘন প্রস্রাব (Frequent Urination) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার প্রস্রাব করার প্রয়োজন অনুভব করেন। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, ঘন ঘন হলে এটি স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, বার্ধক্যপ্রাপ্ত মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী এবং প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে এমন ব্যক্তিরা এটি বেশি অনুভব করেন।
ঘন ঘন প্রস্রাব শুধুমাত্র শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করে না, বরং এটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। তাই এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
1. ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus)
ডায়াবেটিস রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। বেশি চিনি থাকার কারণে কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ক্ষুধার বৃদ্ধি।
2. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (Urinary Tract Infection – UTI)
মূত্রাশয় বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত বা দুর্গন্ধ, নীচের পেট বা পিঠে ব্যথা।
3. প্রোস্টেট সমস্যা (Prostate Problems)
পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থির বড় হওয়া (Benign Prostatic Hyperplasia – BPH) ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্যতম কারণ। এটি প্রস্রাবের নালি (urethra) চাপ প্রয়োগ করে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব, দুর্বল প্রস্রাব, অসম্পূর্ণ প্রস্রাবের অনুভূতি।
4. গর্ভাবস্থা (Pregnancy)
গর্ভাবস্থার সময় প্রস্রাবের হার বাড়ে। গর্ভের ওজন মূত্রাশয় চাপ প্রয়োগ করে এবং হরমোনের পরিবর্তনও প্রভাব ফেলে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: প্রাথমিক তিন মাসে ঘন ঘন প্রস্রাব, মাঝে মাঝে হালকা প্রস্রাবের দুর্গন্ধ।
5. ডায়ুরেটিক ব্যবহার (Diuretic Use)
উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য রোগের জন্য ব্যবহৃত ডায়ুরেটিক ঔষধও ঘন ঘন প্রস্রাব ঘটাতে পারে।
6. কিডনি রোগ (Kidney Disease)
কিডনির সমস্যা যেমন কিডনি পাথর বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: পিঠ বা কোমরে ব্যথা, ফোলা চোখ বা পা, প্রস্রাবে পরিবর্তন।
7. অতিরিক্ত তরল পান (Excess Fluid Intake)
অধিক পানি, চা, কফি, সোডা জাতীয় পানীয় গ্রহণের ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
8. ব্লাডার ডিসফাংশন বা ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (Overactive Bladder)
ব্লাডারের পেশীর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা, রাতে ঘুম ভাঙা।
1. চিকিৎসা নির্ভর করে মূল সমস্যার উপর
2. ঘরোয়া ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন
3. চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ
ঘন ঘন প্রস্রাব সাধারণ হলেও এটি অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, ইউটিআই, প্রোস্টেটের সমস্যা, গর্ভাবস্থা, কিডনি সমস্যা ইত্যাদি কারণে হতে পারে। লক্ষণ চিহ্নিত করে সময়মতো চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করলে এই সমস্যা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
রেফারেন্স:
1. Mayo Clinic. “Frequent urination.” https://www.mayoclinic.org/symptoms/frequent-urination
2. National Kidney Foundation. “Urinary Tract Infections.” https://www.kidney.org/atoz/content/uti
3. American Diabetes Association. “Diabetes and urination.” https://www.diabetes.org/diabetes/urination