আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা: সম্পূর্ণ গাইড

ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে বিরক্ত মানুষ
ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাব (Frequent Urination) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার প্রস্রাব করার প্রয়োজন অনুভব করেন। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, ঘন ঘন হলে এটি স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, বার্ধক্যপ্রাপ্ত মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী এবং প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে এমন ব্যক্তিরা এটি বেশি অনুভব করেন।

 

ঘন ঘন প্রস্রাব শুধুমাত্র শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করে না, বরং এটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। তাই এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রধান কারণসমূহ

 

1. ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus)

ডায়াবেটিস রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। বেশি চিনি থাকার কারণে কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ক্ষুধার বৃদ্ধি।

 

 

2. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (Urinary Tract Infection – UTI)

মূত্রাশয় বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত বা দুর্গন্ধ, নীচের পেট বা পিঠে ব্যথা।

 

 

3. প্রোস্টেট সমস্যা (Prostate Problems)

পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থির বড় হওয়া (Benign Prostatic Hyperplasia – BPH) ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্যতম কারণ। এটি প্রস্রাবের নালি (urethra) চাপ প্রয়োগ করে।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব, দুর্বল প্রস্রাব, অসম্পূর্ণ প্রস্রাবের অনুভূতি।

 

 

4. গর্ভাবস্থা (Pregnancy)

গর্ভাবস্থার সময় প্রস্রাবের হার বাড়ে। গর্ভের ওজন মূত্রাশয় চাপ প্রয়োগ করে এবং হরমোনের পরিবর্তনও প্রভাব ফেলে।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: প্রাথমিক তিন মাসে ঘন ঘন প্রস্রাব, মাঝে মাঝে হালকা প্রস্রাবের দুর্গন্ধ।

 

 

5. ডায়ুরেটিক ব্যবহার (Diuretic Use)

উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য রোগের জন্য ব্যবহৃত ডায়ুরেটিক ঔষধও ঘন ঘন প্রস্রাব ঘটাতে পারে।

 

 

6. কিডনি রোগ (Kidney Disease)

কিডনির সমস্যা যেমন কিডনি পাথর বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: পিঠ বা কোমরে ব্যথা, ফোলা চোখ বা পা, প্রস্রাবে পরিবর্তন।

 

 

7. অতিরিক্ত তরল পান (Excess Fluid Intake)

অধিক পানি, চা, কফি, সোডা জাতীয় পানীয় গ্রহণের ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

 

 

8. ব্লাডার ডিসফাংশন বা ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (Overactive Bladder)

ব্লাডারের পেশীর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ: হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা, রাতে ঘুম ভাঙা।

 

 

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাবের লক্ষণসমূহ

 

  • দিনে ৮-১০ বার বা তার বেশি প্রস্রাবের প্রয়োজন
  • রাতে ২ বা তার বেশি বার প্রস্রাবের জন্য জাগা
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা
  • প্রস্রাবের অপর্যাপ্ত বা দুর্বল প্রবাহ
  • হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা (Urgency)
  • প্রস্রাবের মধ্যে রক্ত বা ম্লান রঙের উপস্থিতি
  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ক্লান্তি

 

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাবের চিকিৎসা

 

 

1. চিকিৎসা নির্ভর করে মূল সমস্যার উপর

 

  • ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে: রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ওষুধ বা ইনসুলিন
  • ইউটিআই-এর ক্ষেত্রে: অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা
  • প্রোস্টেটের ক্ষেত্রে: ওষুধ (Alpha blockers), প্রয়োজন হলে সার্জারি
  • ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডারের জন্য: ব্লাডার ট্রেনিং, ওষুধ (Antimuscarinics)

 

 

2. ঘরোয়া ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন

 

  • পর্যাপ্ত পানি পান, কিন্তু অতিরিক্ত নয়
  • চা, কফি, অ্যালকোহল সীমিত করা
  • রাত্রে খুব বেশি তরল পান না করা
  • প্রস্রাব বন্ধ রাখা বা পেছনে ধাক্কা দেওয়া এড়ানো

 

 

3. চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ

 

  • যদি ঘন ঘন প্রস্রাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা জরুরি
  • কিডনি ফাংশন টেস্ট, ইউরিন অ্যানালাইসিস, ব্লাড শর্করা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে

 

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাব প্রতিরোধের পরামর্শ

 

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (প্রোটিন, কম চিনি, কম প্রসেসড ফুড)
  • নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • স্ট্রেস কমানো ও পর্যাপ্ত ঘুম
  • প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্লাডার ট্রেনিং
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

 

 

 

ঘন ঘন প্রস্রাব সাধারণ হলেও এটি অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, ইউটিআই, প্রোস্টেটের সমস্যা, গর্ভাবস্থা, কিডনি সমস্যা ইত্যাদি কারণে হতে পারে। লক্ষণ চিহ্নিত করে সময়মতো চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করলে এই সমস্যা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

রেফারেন্স:

1. Mayo Clinic. “Frequent urination.” https://www.mayoclinic.org/symptoms/frequent-urination

2. National Kidney Foundation. “Urinary Tract Infections.” https://www.kidney.org/atoz/content/uti

3. American Diabetes Association. “Diabetes and urination.” https://www.diabetes.org/diabetes/urination


সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর