বর্তমান সময়ে হেডফোন এবং ইয়ারফোন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। যাতায়াত, কাজ কিংবা বিনোদন—সবক্ষেত্রেই ব্লুটুথ হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
হেডফোনের মাধ্যমে গান শোনা, মুভি দেখা কিংবা ভিডিও কল করা যেমন সহজ হয়, তেমনি এটি অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘসময় উচ্চ ভলিউমে হেডফোন ব্যবহার করলে কানে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, এমনকি স্থায়ী বধিরতার ঝুঁকিও রয়েছে।
—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ। তাদের অনেকেই জন্মগত কারণে বধির নন; বরং শব্দদূষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারই প্রধান কারণ।
—
১. শব্দ উৎসের কাছাকাছি অবস্থান:
হেডফোন সরাসরি কানের ভেতরে বা খুব কাছে অবস্থান করে। ফলে শব্দের চাপ সরাসরি শ্রবণযন্ত্রে পড়ে।
২. তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রভাব:
হেডফোনের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল কানের খুব কাছে তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কানের ক্ষতি করে।
৩. উচ্চ ডেসিবেল মাত্রা:
বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোন ও হেডফোন ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত সাউন্ড উৎপাদন করতে পারে, যা সাধারণত লাইভ কনসার্টের সমান শব্দ। দীর্ঘসময় এ ধরনের শব্দে গান শোনা শ্রবণশক্তির জন্য ভয়াবহ।
৪. শ্রবণ স্নায়ুর ক্ষতি:
অতিরিক্ত শব্দ কানের ভেতরের স্নায়ু কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এগুলো পুনরায় তৈরি হয় না, ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণক্ষমতা কমে যায়।
—
ডেসিবেল মাপার যন্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে থাকে না। তাই বিশেষজ্ঞরা সহজ একটি নির্দেশনা দিয়েছেন:
যদি গান শোনার সময় বাইরের শব্দ শোনা না যায়, তবে সেই ভলিউম ক্ষতিকর।
WHO এর তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘসময় শোনার ফলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
—
ফোনের সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার নিরাপদ।
এই ভলিউমে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা পর্যন্ত গান শোনা যেতে পারে।
ফুল ভলিউমে সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের বেশি শোনা একেবারেই উচিত নয়।
নিয়মিত হেডফোন ব্যবহারকারীদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন বিরতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
—
—
—
হেডফোন আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও এর অপব্যবহার ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। দীর্ঘসময় উচ্চ ভলিউমে গান শোনা বা ভিডিও দেখা কানের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, ভলিউম সর্বোচ্চ ৬০% এর নিচে রাখা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার না করাই শ্রবণক্ষমতা রক্ষার জন্য জরুরি।