আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ৫ লাখ চিকিৎসা সামগ্রী সহায়তা পেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | Bangladesh Red Crescent & IFRC Support DGHS

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও আইএফআরসি কর্তৃক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর
ডেঙ্গু, কোভিড-১৯ ও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠান

সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পেল ৫ লাখ চিকিৎসা সামগ্রী: জাপান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক সহায়তা

 

ন্যাচারাল মেডিকেল রিপোর্ট | ২৪ অক্টোবর ২০২৫

ডেঙ্গু, করোনা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে প্রায় পাঁচ লাখ চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS)আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC)। এই সহায়তায় অর্থায়ন করেছে জাপান সরকারএশিয়া-ইউরোপ ফাউন্ডেশন (ASEF)

 

বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব চিকিৎসা সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে “স্টকপাইল প্রজেক্ট (Stockpile Project)”-এর আওতায়, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জরুরি স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতে মহামারী বা মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।

 

 

 

চিকিৎসা সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা:

 

সরকারের হাতে দেওয়া চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

 

  • ১,২০,০০০ ডেঙ্গু টেস্ট কিট
  • ৬৮,০০০ কোভিড-১৯ অ্যান্টিজেন কিট
  • ২৫,০০০ আরটিপিসিআর (RT-PCR) কিট
  • ২,২০,০০০ কলেরা চিকিৎসা সামগ্রী ও স্যালাইন সলিউশন

 

 

এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, গাজীপুরের তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ, খুলনা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক হেমাটোক্রিট টেস্টিং ডিভাইস এবং বেডসাইড আলট্রাসাউন্ড মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।

 

 

আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বক্তব্য:

 

জাপানের ডেপুটি চিফ অব মিশন তাকাহাশি নাওকি বলেন —

 

“বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় জাপানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য এই উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করা, যাতে দুর্বল জনগোষ্ঠী আরও ভালোভাবে সহায়তা পায়।”

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শেখ সাইদুল হক বলেন —

 

“জাপান, আইএফআরসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও এএসইএফ-এর সময়োপযোগী চিকিৎসা সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই সহযোগিতা আমাদের ডেঙ্গু, কোভিড-১৯ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”

 

 

 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বাস্থ্য পরিচালক শাহানা জাফর বলেন —

 

“আমরা সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করি। কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার অভিজ্ঞতা আমাদেরকে কমিউনিটির পাশে আরও নিবিড়ভাবে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে।”

 

 

 

আইএফআরসির বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রধান আলবের্টো বোকানেগ্রা বলেন —

 

“স্টকপাইল প্রজেক্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু, কোভিড-১৯সহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।”

 

 

 

স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

 

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও সুসংগঠিত করা হবে, এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই ও প্রতিরোধনির্ভর করার কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে।

 

এর আগে ২০২৪ সালে একই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করা হয়েছিল —

 

  • ৬০,০০০ ডেঙ্গু কিট
  • ১,২০,০০০ স্যালাইন বোতল
  • ৭০,০০০ ডেক্সট্রোজ স্যালাইন
  • ১০,০০০ কোভিড-১৯ অ্যান্টিজেন কিট
  • ৭,৫০০ আরটিপিসিআর কিট

 

 

এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে।

 

 

 

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের এই মডেল এখন কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সহায়তা ভবিষ্যৎ জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

 

 

🟩 রেফারেন্স / সূত্র:

 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS)

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC)

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ

জাপান দূতাবাস, ঢাকা

এশিয়া-ইউরোপ ফাউন্ডেশন (ASEF)


সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর