ন্যাচারাল মেডিকেল রিপোর্ট | ২৪ অক্টোবর ২০২৫
ডেঙ্গু, করোনা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে প্রায় পাঁচ লাখ চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC)। এই সহায়তায় অর্থায়ন করেছে জাপান সরকার ও এশিয়া-ইউরোপ ফাউন্ডেশন (ASEF)।
বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব চিকিৎসা সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে “স্টকপাইল প্রজেক্ট (Stockpile Project)”-এর আওতায়, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জরুরি স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতে মহামারী বা মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।
সরকারের হাতে দেওয়া চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে ছিল—
এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, গাজীপুরের তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ, খুলনা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক হেমাটোক্রিট টেস্টিং ডিভাইস এবং বেডসাইড আলট্রাসাউন্ড মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।
জাপানের ডেপুটি চিফ অব মিশন তাকাহাশি নাওকি বলেন —
“বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় জাপানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য এই উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করা, যাতে দুর্বল জনগোষ্ঠী আরও ভালোভাবে সহায়তা পায়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শেখ সাইদুল হক বলেন —
“জাপান, আইএফআরসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও এএসইএফ-এর সময়োপযোগী চিকিৎসা সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই সহযোগিতা আমাদের ডেঙ্গু, কোভিড-১৯ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বাস্থ্য পরিচালক শাহানা জাফর বলেন —
“আমরা সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করি। কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার অভিজ্ঞতা আমাদেরকে কমিউনিটির পাশে আরও নিবিড়ভাবে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে।”
আইএফআরসির বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রধান আলবের্টো বোকানেগ্রা বলেন —
“স্টকপাইল প্রজেক্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু, কোভিড-১৯সহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।”
অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও সুসংগঠিত করা হবে, এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই ও প্রতিরোধনির্ভর করার কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে ২০২৪ সালে একই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করা হয়েছিল —
এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের এই মডেল এখন কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সহায়তা ভবিষ্যৎ জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
🟩 রেফারেন্স / সূত্র:
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS)
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC)
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ
জাপান দূতাবাস, ঢাকা
এশিয়া-ইউরোপ ফাউন্ডেশন (ASEF)