আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমএফ পেশাজীবীদের ভূমিকা
একজন গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল ভরসা ডিএমএফ পেশাজীবী জুলাই যোদ্ধা

 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার প্রস্তাবনার (খসড়া) প্রকাশ করেছে, তা ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ৪.৫ বছর মেয়াদি ডিএমএফ (Diploma in Medical Faculty) পেশাজীবীদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত খসড়ায় যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে, তা দেশের বাস্তব স্বাস্থ্যচাহিদা ও জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রেক্ষাপটে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে এবং দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা প্রত্যক্ষকারী নাগরিক হিসেবে মুহাম্মদ রাজু আহমেদ প্রকাশ্যে তাঁর দ্বিমত পোষণ করেছেন।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

 

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—

  • প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা
  • প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার ঘাটতি পূরণ
  • বিদ্যমান মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা

কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়ায় ডিএমএফ পেশাজীবীদের ভূমিকা কার্যত উপেক্ষিত। বরং এমন এক কাঠামো দাঁড় করানোর ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে ডিএমএফদের মূলধারার স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ, যা একটি কুচক্রী মহলের ইচ্ছা বাস্তবায়নের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

ডিএমএফ পেশাজীবীদের বাস্তব অবদান

 

বাস্তবতা হলো—

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত ভিত্তি হিসেবে ডিএমএফ পেশাজীবীরাই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল
  • চর, হাওর, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা
  • উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়

এই সকল অঞ্চলে যেখানে এমবিবিএস চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি বাস্তবসম্মত নয়, সেখানে ডিএমএফরাই জনগণের প্রথম ভরসা।

মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে ডিএমএফদের অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

জুলাই সনদ ও ন্যায়বোধের প্রশ্ন

 

জুলাই সনদের মূল চেতনা ছিল—

  • বৈষম্যের অবসান
  • জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা
  • বাস্তবভিত্তিক সংস্কার

কিন্তু ডিএমএফদের বাদ দিয়ে প্রণীত স্বাস্থ্যখাত সংস্কার সেই চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্ন আজ জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

 

একজন জুলাই যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও বিবেক ও ন্যায়বোধের তাগিদে মুহাম্মদ রাজু আহমেদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন—

“এই স্বাস্থ্যখাত সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হলে আমি সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারছি না।”

এ বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মত নয়; এটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার প্রতিফলন।

 

কেন এই খসড়া পুনর্বিবেচনা জরুরি

 

এই খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে—

  • প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় শূন্যতা তৈরি হবে
  • গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
  • স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্য আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে

 

অতএব, সকল স্বাস্থ্যকর্মীর সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে কোনো সংস্কারই টেকসই হতে পারে না।

 

 

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার অবশ্যই জরুরি, তবে তা হতে হবে বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা ও ন্যায়ভিত্তিক। ডিএমএফ পেশাজীবীদের অবদান অস্বীকার করে কোনো সংস্কার প্রস্তাবনা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না।

জুলাই সনদের চেতনা রক্ষার স্বার্থেই এই খসড়া পুনর্বিবেচনা করা আজ সময়ের দাবি।

 

 

 

— মুহাম্মদ রাজু আহমেদ

জুলাই যোদ্ধা

সাভার জোন


সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর