জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার প্রস্তাবনার (খসড়া) প্রকাশ করেছে, তা ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ৪.৫ বছর মেয়াদি ডিএমএফ (Diploma in Medical Faculty) পেশাজীবীদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত খসড়ায় যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে, তা দেশের বাস্তব স্বাস্থ্যচাহিদা ও জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রেক্ষাপটে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে এবং দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা প্রত্যক্ষকারী নাগরিক হিসেবে মুহাম্মদ রাজু আহমেদ প্রকাশ্যে তাঁর দ্বিমত পোষণ করেছেন।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—
কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়ায় ডিএমএফ পেশাজীবীদের ভূমিকা কার্যত উপেক্ষিত। বরং এমন এক কাঠামো দাঁড় করানোর ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে ডিএমএফদের মূলধারার স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ, যা একটি কুচক্রী মহলের ইচ্ছা বাস্তবায়নের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
বাস্তবতা হলো—
বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত ভিত্তি হিসেবে ডিএমএফ পেশাজীবীরাই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই সকল অঞ্চলে যেখানে এমবিবিএস চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি বাস্তবসম্মত নয়, সেখানে ডিএমএফরাই জনগণের প্রথম ভরসা।
মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে ডিএমএফদের অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
জুলাই সনদের মূল চেতনা ছিল—
কিন্তু ডিএমএফদের বাদ দিয়ে প্রণীত স্বাস্থ্যখাত সংস্কার সেই চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্ন আজ জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
একজন জুলাই যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও বিবেক ও ন্যায়বোধের তাগিদে মুহাম্মদ রাজু আহমেদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন—
“এই স্বাস্থ্যখাত সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হলে আমি সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারছি না।”
এ বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মত নয়; এটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার প্রতিফলন।
এই খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে—
অতএব, সকল স্বাস্থ্যকর্মীর সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে কোনো সংস্কারই টেকসই হতে পারে না।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার অবশ্যই জরুরি, তবে তা হতে হবে বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা ও ন্যায়ভিত্তিক। ডিএমএফ পেশাজীবীদের অবদান অস্বীকার করে কোনো সংস্কার প্রস্তাবনা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না।
জুলাই সনদের চেতনা রক্ষার স্বার্থেই এই খসড়া পুনর্বিবেচনা করা আজ সময়ের দাবি।
— মুহাম্মদ রাজু আহমেদ
জুলাই যোদ্ধা
সাভার জোন