আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

কামরাঙা খেলে কি কিডনি নষ্ট হয়? বিস্তারিত গাইড ও স্বাস্থ্য পরামর্শ (চিকিৎসকের মতামত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণসহ)

কামরাঙা ফলের ছবি
কিডনি সমস্যায় কামরাঙা খাওয়ার সতর্কতা

 

বাংলাদেশে কামরাঙা বা স্টারফ্রুট একটি জনপ্রিয় ফল। এর টক-মিষ্টি স্বাদ, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের কারণে অনেকেই এটি নিয়মিত খেয়ে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণায় দেখা গেছে, কামরাঙা অতিরিক্ত খাওয়া কিডনি রোগীদের জন্য মারাত্মক হতে পারে— এমনকি কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাহলে কি সবাই কামরাঙা খাওয়া বন্ধ করবে? না, বিষয়টি এরচেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত। চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

 

 

 

কামরাঙা ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

 

কামরাঙা বা Averrhoa carambola একটি ট্রপিক্যাল ফল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও মালয়েশিয়ায় ব্যাপকভাবে জন্মে। প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙায় থাকে—

 

  • ক্যালরি: প্রায় ৩১
  • পানি: ৯১%
  • কার্বোহাইড্রেট: ৬.৭ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ৫৭%
  • পটাশিয়াম, ফাইবার, ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

 

 

উপকারিতা:

 

  • ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
  • হজমে সহায়ক
  • ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে

 

 

তবে সব ভালো কিছুর মতো, কামরাঙারও একটি “ডার্ক সাইড” রয়েছে— বিশেষ করে কিডনি রোগীদের জন্য।

 

 

 

কেন কামরাঙা কিডনির জন্য বিপজ্জনক?

 

কামরাঙায় একটি প্রাকৃতিক টক্সিন আছে, যার নাম Caramboxin (কারামবক্সিন)। এটি একটি নিউরোটক্সিক অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মানুষের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যখন কিডনি তা শরীর থেকে বের করে দিতে পারে না।

 

১. কিডনির কাজের সাথে সম্পর্ক

 

কিডনি আমাদের শরীরের ফিল্টার সিস্টেম— রক্ত থেকে টক্সিন ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু যদি কারও কিডনি দুর্বল হয় বা “Chronic Kidney Disease (CKD)” থাকে, তবে এই টক্সিন শরীরে জমে যায়। তখন কামরাঙায় থাকা কারামবক্সিন রক্তে থেকে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে, যার ফলে দেখা দেয়—

 

  • খিঁচুনি
  • মানসিক বিভ্রান্তি
  • বমি
  • ঘুম ঘুম ভাব
  • এমনকি কোমা পর্যন্ত হতে পারে

 

 

২. গবেষণা প্রমাণ:

 

২০১৩ সালে Clinical Toxicology Journal-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, কিডনি রোগীদের মধ্যে মাত্র ১-২ টি কামরাঙা খাওয়ার পরও নিউরোটক্সিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

একইভাবে, Brazilian Journal of Nephrology (2014) রিপোর্ট করে যে, কামরাঙা খাওয়ার পর ৩ ঘণ্টার মধ্যে খিঁচুনি, কথা জড়িয়ে যাওয়া ও চেতনা হারানোর ঘটনা ঘটে কিডনি রোগীদের মধ্যে।

 

 

 

সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য কি কামরাঙা বিপজ্জনক?

 

না, সাধারণত নয়।

যাদের কিডনি একদম সুস্থ, তারা মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণে কামরাঙা খেলে কোনো ক্ষতি হয় না।

 

তবে—

 

  • অতিরিক্ত খেলে (প্রতিদিন ৪-৫টি বা তার বেশি)
  • খালি পেটে খেলে
  • অথবা পানিশূন্যতার অবস্থায় খেলে

তখনও শরীরে টক্সিনের প্রভাব পড়তে পারে, কারণ কারামবক্সিনের প্রাকৃতিক নিঃসরণ ধীর হয়ে যায়।

 

 

 

 

কিডনি রোগীদের জন্য কামরাঙার ক্ষতিকর দিক

 

ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা

 

নিউরোটক্সিসিটি কামরাঙায় থাকা কারামবক্সিন মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে খিঁচুনি ও কোমা ঘটাতে পারে।

বমি ও বমিভাব টক্সিন শরীরে জমে গেলে বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা ও হজম সমস্যা হয়।

রক্তচাপের পরিবর্তন অতিরিক্ত পটাশিয়াম কিডনি রোগীদের রক্তচাপ ও হার্টবিটে সমস্যা তৈরি করে।

কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া দীর্ঘদিন খেলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) আরও খারাপ হতে পারে।

 

 

 

 

চিকিৎসক ও গবেষকদের পরামর্শ

 

১. যদি কিডনি রোগ থাকে:

 

  • কামরাঙা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।
  • এমনকি রস, জুস বা রান্না করা কামরাঙাও নয়।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফলমূল পরিবর্তন করা যাবে না।

 

 

২. যদি কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়:

 

  • সপ্তাহে ১-২ বার অল্প পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
  • অন্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উত্তম।

 

 

 

 

বিশেষ সতর্কতা:

 

ডায়াবেটিক কিডনি রোগী, হাইপারটেনশন রোগী, বা ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের জন্য কামরাঙা একেবারেই নিষিদ্ধ।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

যদি কামরাঙা খাওয়ার পর বমি, বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

 

 

 

বিকল্প নিরাপদ ফল:

 

যাদের কিডনি সমস্যা আছে, তারা নিচের ফলগুলো সীমিত পরিমাণে খেতে পারেন—

 

  • আপেল
  • পেঁপে
  • আঙ্গুর
  • তরমুজ (পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত)
  • পেয়ারা (ডাক্তারের পরামর্শে)

 

 

 

 

গবেষণা সূত্র / রেফারেন্স:

 

1. Neto MM et al., “Star fruit intoxication: An update”, Clin Exp Nephrol, 2017.

2. Chen CL et al., “Star fruit intoxication in patients with renal failure: Clinical experience and review”, QJM: An International Journal of Medicine, 2001.

3. Martin LC, et al., “Neurotoxic effects of caramboxin in chronic kidney disease patients”, Brazilian Journal of Nephrology, 2014.

4. National Kidney Foundation. “Foods to avoid in kidney disease”. (https://www.kidney.org)

5. U.S. National Library of Medicine – PubMed Articles on Averrhoa carambola toxicity.

 

 

 

কামরাঙা একটি পুষ্টিকর ফল হলেও এটি কিডনি রোগীদের জন্য “বিষের মতো” হতে পারে। কারামবক্সিন নামের টক্সিনটি কিডনি দুর্বল হলে শরীর থেকে বের হয় না এবং নিউরোলজিক্যাল সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই যারা কিডনি রোগে ভুগছেন, তাদের এই ফল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। তবে সুস্থ মানুষরা পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকারই পেতে পারেন।

 

মূল বার্তা:

  • কিডনি দুর্বল হলে কামরাঙা নয়।
  • সুস্থ কিডনিতে পরিমিত কামরাঙা নিরাপদ।
  • কোনো সন্দেহ থাকলে অবশ্যই নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর