বরিশাল অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক সম্ভাব্য সম্পর্ক, সামাজিক টানাপোড়েন, মানসিক চাপ ও মৃত্যুর ঘটনার গল্প এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিকদার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী সুমি আক্তার, এবং একই উপজেলার মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ পারভেজ–এ জুটি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে পরকীয়া, প্রতারণা, সামাজিক অবহেলা এবং শেষ পর্যন্ত এক নারীর করুণ মৃত্যুর ঘটনা।
এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য—যেমন: আজকের রূপান্তর, তালাশ বিডি, টাইমস অফ বরিশাল, পথেপ্রান্তরে ইত্যাদি—সংকলন, বিশ্লেষণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা ধরে সাজানো হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমি আক্তার একজন বিবাহিতা ও এক সন্তানের মা। তিনি বরিশালের সিকদার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ পারভেজ–এর সঙ্গে।
সামাজিকভাবে এবং পেশাগতভাবে তাদের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও সময়ের সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যে দাবি করা হয়—ডা. পারভেজের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর সুমি তার স্বামীকে তালাকও দেন।
সংবাদ সূত্রগুলো জানায়, সুমি আক্তার অভিযোগ করেছিলেন—ডা. মাসুদ তাকে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু পরে তার প্রতি উদাসীনতা এবং প্রতারণার আচরণ দেখান।
কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, সুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তিনি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ঘটনার শেষ সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে—
সংবাদে দাবি করা হয়, মানসিক চাপে তিনি বিষপানের মতো চরম পদক্ষেপ নেন।
সংবাদ অনুযায়ী, সুমি আক্তার প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
একাধিক সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে—বিষপানের আগে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভে নিজের হতাশা, কষ্ট ও অভিযোগ ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে যে ঘটনার পর থেকেই ডা. মাসুদ পারভেজ পলাতক এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
যদিও পুলিশের ভাষ্য—তারা এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা পাননি, কিন্তু অভিযোগ পেলে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
টাইমস অফ বরিশালের প্রতিবেদনে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেছেন—
এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নৈতিকতা, চিকিৎসক-রোগী/কর্মীর সম্পর্ক, কর্মস্থলজ পরিবেশ, চাপ এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসে।
সুমি আক্তারের মৃত্যুর পর বরিশালসহ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
যেখানে মূলত উঠে এসেছে—
এই লেখাটি কোনও পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত না করে সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনা ব্যাখ্যা করেছে। আইনি তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার উপসংহারে যাওয়া উচিত নয়—এটিই সাংবাদিকতার নৈতিকতা।
রেফারেন্স / সূত্র
(সংবাদ থেকে পূর্বে যাচাই করা সূত্র)