সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেড পদমর্যাদা বাস্তবায়নের দাবিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘ আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নিতে চলেছে। এ দাবিতে সরকারকে ৯৬ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা দিলেন পেশাজীবীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে আগামী রোববার থেকে শুরু হবে সারাদেশে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি, যা শেষপর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউনে রূপ নিতে পারে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা আসে। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম মূল স্তম্ভ হয়েও টেকনোলজিস্ট–ফার্মাসিস্টদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলার কারণেই তারা আজ এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সমন্বয়ক ও এম–ট্যাবের মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব তিন ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করেন—
৩০ নভেম্বর (রোববার) — ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি
৩ ডিসেম্বর — অর্ধদিবস কর্মবিরতি
৪ ডিসেম্বর থেকে — সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন
সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বিশেষায়িত কেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি একযোগে পালন করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিও চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের মহাসচিব মো. রিপন শিকদার।
তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার সাফল্য মূলত টিমওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে চিকিৎসক–নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
যেসব ক্ষেত্রে টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
রোগ নির্ণয়ের এই মৌলিক ক্ষেত্রগুলোর পুরো কাজই পরিচালনা করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।
ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব—
সঠিক ওষুধ সঠিক রোগীর কাছে পৌঁছানোই একজন ফার্মাসিস্টের প্রধান দায়িত্ব, যা স্বাস্থ্যসেবার মূল কাঠামোর একটি শক্তিশালী স্তম্ভ।
বক্তারা জানান,
১৯৯৪ সাল থেকে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি চলমান। নিয়মতান্ত্রিকভাবে অসংখ্যবার আবেদন, দাপ্তরিক চিঠি, সাক্ষাৎকার ও আলোচনার পরও এখনো সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০৩ সালে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বক্তাদের অভিযোগ—
“ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দাবি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা।”
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি নতুন করে আলোচনায় আসে।
গত বছর তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বহুবার আবেদন জমা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়।
তবে এখনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রয়েছে।
বক্তারা বলেন—
যেসব সমমানের ডিপ্লোমাধারী ইতোমধ্যেই দশম গ্রেড পেয়েছেন:
কিন্তু একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের এখনো দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি, যা স্পষ্ট বৈষম্য বলেই মন্তব্য করেন বক্তারা।
রেফারেন্স / সূত্র