আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

মুড সুইং নারীদের মধ্যে: কারণ, উপসর্গ ও করণীয় | মানসিক স্বাস্থ্য

Mood swings in women - emotional health illustration
হরমোনাল পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য নারীদের মুড সুইং-এর মূল কারণ

মুড সুইং বা মনের অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তন এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা অনেক নারী জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনুভব করেন। এক মুহূর্তে খুশি, পরের মুহূর্তেই দুঃখ, রাগ, অস্থিরতা বা হতাশা—এগুলোই মুড সুইং-এর সাধারণ রূপ। বিশেষ করে হরমোনাল পরিবর্তন, মানসিক চাপ, সামাজিক অবস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা চাপের কারণে নারীদের মধ্যে এই অবস্থা দেখা যায়। অনেক সময় এটি স্বাভাবিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে মুড সুইং বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে।

 

এই প্রতিবেদনে আমরা নারীদের মধ্যে মুড সুইং-এর মূল কারণ, উপসর্গ, এবং যথাযথ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

 

 

মুড সুইং কী?

 

মুড সুইং হলো মানসিক অবস্থার এমন পরিবর্তন যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে এবং এতে ব্যক্তি খুশি থেকে দুঃখিত বা রাগান্বিত হয়ে পড়তে পারেন। সাধারণত এটা কিছু সময় পর স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে যদি এই পরিবর্তন ঘন ঘন বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।

 

 

নারীদের মধ্যে মুড সুইং-এর সাধারণ কারণ

 

১. হরমোনাল পরিবর্তন:

মাসিক চক্র: মাসিকের আগে (PMS) বা চলাকালীন সময়ে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা ওঠানামা করে। এর ফলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়।

 

গর্ভাবস্থা ও প্রসবোত্তর সময়: গর্ভাবস্থায় হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন এবং সন্তান জন্মের পর হরমোনের হঠাৎ পতন মুড সুইং-এর বড় কারণ হতে পারে।

 

মেনোপজ: মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যায়, যা অনেক নারীর মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, হতাশা ও আবেগীয় অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

 

 

২. মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রভাব:

কর্মজীবন, পরিবার, সমাজ—সব দিক থেকে চাপের কারণে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেক নারী পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দ্বৈত ভূমিকার চাপের কারণে আবেগিকভাবে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

 

৩. ঘুমের অভাব:

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। এতে বিরক্তি, রাগ বা মন খারাপ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

 

৪. পুষ্টিহীনতা ও জীবনযাত্রার প্রভাব:

প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসও মুড সুইং বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 

৫. মানসিক রোগ বা অবস্থা:

 

ডিপ্রেশন (Depression)

বাইপোলার ডিসঅর্ডার (Bipolar Disorder)

অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (Anxiety Disorders)

এই ধরনের মানসিক অবস্থায় মুড সুইং একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়।

 

 

 

নারীদের মধ্যে মুড সুইং-এর সাধারণ উপসর্গ

 

  • অল্পতেই কান্না পেয়ে যাওয়া
  • হঠাৎ রাগ বা বিরক্তি
  • মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
  • অকারণে হতাশা বা দুঃখ
  • আনন্দহীনতা বা আগ্রহ হারানো
  • সহজেই আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া
  • সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলা বা একাকিত্ব বোধ

 

 

 

কখন মুড সুইং নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

 

  • মুড সুইং যদি নিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়
  • দৈনন্দিন কাজ, পরিবার বা কর্মজীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে
  • আত্মহত্যার চিন্তা বা চরম হতাশা অনুভূত হয়
  • মেজাজ পরিবর্তনের সঙ্গে ঘুম, খাওয়া ও আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে
  • এই অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

 

মুড সুইং-এর করণীয় ও চিকিৎসা

 

১. হরমোন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা:

মুড সুইং যদি ঘন ঘন ঘটে, তাহলে রক্ত পরীক্ষা ও হরমোন প্রোফাইল করে দেখা দরকার। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয়।

 

২. মানসিক পরামর্শ ও থেরাপি:

 

  • কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)
  • সাইকোথেরাপি
  • এসব পদ্ধতি আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রমাণিত।

 

 

৩. সঠিক ঘুম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস:

 

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা

পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও পানি গ্রহণ

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া

 

৪. নিয়মিত ব্যায়াম ও রিল্যাক্সেশন:

 

যোগব্যায়াম, হাঁটা, মেডিটেশন—এসব কার্যক্রম মস্তিষ্কে “এন্ডরফিন” হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে।

 

৫. সামাজিক যোগাযোগ ও পরিবারের সহায়তা:

 

ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে নিজের অনুভূতি শেয়ার করা মুড সুইং মোকাবিলায় অনেক সাহায্য করে।

 

৬. ওষুধ প্রয়োগ (প্রয়োজনে):

 

কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা মুড স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহৃত হতে পারে।

 

 

 

প্রতিরোধে করণীয়

 

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো বিশ্রাম নেওয়া
  • নিজেকে সময় দেওয়া ও হবি বা পছন্দের কাজে যুক্ত থাকা
  • প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং নেওয়া

 

 

 

রেফারেন্সঃ

 

1. American Psychological Association. Mood Swings and Hormonal Changes in Women.

2. Mayo Clinic. Premenstrual Syndrome (PMS) – Symptoms and Causes.

3. National Institute of Mental Health (NIMH). Mood Disorders.

4. Harvard Health Publishing. How Sleep Affects Emotional Health.


সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর