সহবাস মানুষের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির একটি অংশ। তবে নারী কতদিন সহবাস ছাড়া থাকতে পারবেন, এ নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত। কেউ মনে করেন সহবাস ছাড়া নারীর শরীর “নষ্ট” হয়ে যায়, আবার কেউ মনে করেন যোনি “বন্ধ” হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এসব দাবির ভিত্তি নেই।
নারীরা ইচ্ছা করলে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও সহবাস ছাড়াই থাকতে পারেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোথাও বলা নেই যে নির্দিষ্ট সময় পরপর সহবাস না করলে শরীরে ক্ষতি হবে।
অনেক নারী সচেতনভাবে ব্রহ্মচার্য জীবনযাপন করেন এবং তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় না।
নারীর ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নির্দিষ্ট চক্রে নিঃসৃত হয়। এটি সহবাসের ওপর নির্ভর করে না।
সহবাস না করলেও মাসিক স্বাভাবিকভাবে চলবে, ডিম্বস্ফোটন ঘটবে, গর্ভধারণের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
মেনোপজ হলে ইস্ট্রোজেন হ্রাসের কারণে যোনি শুষ্কতা বা ব্যথা হতে পারে, তবে এটি সহবাসের অভাবে নয়—বরং হরমোনাল পরিবর্তনের ফল।
প্রচলিত ধারণা হলো, সহবাস না করলে যোনি সরু বা বন্ধ হয়ে যাবে।
বাস্তবে যোনি একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা নমনীয় থাকে। দীর্ঘদিন সহবাস না করলেও এটি বন্ধ হয় না।
মেনোপজ-পরবর্তী যোনি অ্যাট্রফি মূলত হরমোনের ঘাটতির কারণে হয়, যার চিকিৎসা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা লুব্রিক্যান্ট।
পেলভিক কনজেশন সিনড্রোম (Pelvic Congestion Syndrome) শিরা ফুলে যাওয়ার কারণে হয়, যৌন সম্পর্ক না থাকার কারণে নয়।
তাই সহবাস না করার ফলে দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা হয়—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
যৌনতা মানসিক প্রশান্তি, আবেগিক ঘনিষ্ঠতা ও দাম্পত্য সুখ বাড়াতে পারে।
পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে, যৌন সন্তুষ্টি বেশি হলে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কম হয়, তবে সম্পর্কটি দ্বিমুখী—ডিপ্রেশন থাকলে যৌন ইচ্ছাও কমে যায়।
অর্থাৎ, সহবাসের অভাব সরাসরি মানসিক রোগ সৃষ্টি করে না, তবে কারো কারো মধ্যে একাকিত্ব ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
দীর্ঘদিন সহবাস না করলে ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানে কোনো বাধা আসে না।
প্রজননক্ষমতা নির্ভর করে বয়স, ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু মজুদ, হরমোন ভারসাম্য, টিউব ও জরায়ুর স্বাস্থ্য, এবং পুরুষের শুক্রাণুর মানের ওপর।
সহবাস না করলেও শারীরিক ক্ষতি হয় না। তবে মানসিক সুস্থতার জন্য ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধ্যান, ধর্মীয় চর্চা ও সঙ্গীর সাথে মানসিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা উপকারী।
মেনোপজ-পরবর্তী শুষ্কতা বা ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিক্যান্ট, যোনি ময়েশ্চারাইজার বা লোকাল ইস্ট্রোজেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
নারীরা সহবাস ছাড়া অনায়াসে দীর্ঘ সময় থাকতে পারেন, এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না।
যোনি বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া বা গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হওয়া—এসব ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল।
তবে সহবাস মানসিক ঘনিষ্ঠতা ও দাম্পত্য সুখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই বিষয়টি মূলত শারীরিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মানসিক ও সম্পর্কভিত্তিক।
অনেকে মনে করেন নারী বা পুরুষ নির্দিষ্ট সময় সহবাস ছাড়া থাকলে শরীরে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞান বলছে—এটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ যৌনতা মানুষের মৌলিক বেঁচে থাকার শর্ত নয়।
নারীর পিরিয়ড, ওভ্যুলেশন, হরমোনাল সাইকেল, প্রজনন ক্ষমতা—সবকিছুই যৌন সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে (যদি অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে)।
১৮–৩০ বছর
৩০–৪৫ বছর
৪৫–৬৫ (মেনোপজ)
উত্তর: যতদিন ইচ্ছা।
নারীর শরীরে সহবাস না থাকার কারণে কোনো জৈবিক ক্ষতি হয় না।
এই কারণেই চিকিৎসাশাস্ত্র, মনোবিজ্ঞান ও হরমোন গবেষণা—সব জায়গায় একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে:
নারীর সহবাসবিহীন জীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
১. দীর্ঘ সময় সিঙ্গেল থেকেও মানসিকভাবে দৃঢ়
জয়া বলেছেন—
একাকিত্ব মানে অসহায়ত্ব নয়; বরং নিজেকে বোঝার সুযোগ।
WHO-এর মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা বলছে—
ব্যক্তি যদি মানসিকভাবে পরিপক্ব হন, তবে সহবাস না থাকলেও তিনি আবেগগতভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।
জয়ার জীবন এই গবেষণাকে বাস্তব রূপ দেয়।
২. নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা
তিনি নিজের কাজ, শিল্প, ব্যস্ততা ও মানসিক পরিপক্কতাকে অগ্রাধিকার দেন।
এটি প্রমাণ করে—নারীর যৌনতা জীবনের একমাত্র “সংজ্ঞা” নয়।
৩. নারী স্বাধীনতার প্রতীক
জয়া আহসান বারবার বলেছেন—
“ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই থাকা উচিত।”
এটি নারীর যৌন স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সমাজ অনেক সময় সহবাসবিহীন নারীর প্রতি কটাক্ষ করে, কিন্তু জয়া আহসানের অবস্থান দেখায়—
একজন নারী নিজের সিদ্ধান্তে স্বাধীন।
৪. মানসিক শান্তিই মূল
তিনি বিশ্বাস করেন—
“মানুষের সঙ্গে মানসিক সংযোগ শারীরিক সংযোগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সাম্প্রতিক যৌনমনোবিজ্ঞান গবেষণায়ও দেখা গেছে—
শারীরিক সম্পর্ক আবেগের একমাত্র উৎস নয়।
নারী সহবাস ছাড়া কতদিন থাকতে পারে—এর নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক সময়সীমা নেই। সহবাস না থাকলে নারীর শরীর বা হরমোনে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। তবে মানসিক অবস্থা, যৌন আকাঙ্ক্ষা ও কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই প্রতিবেদনে নারী স্বাস্থ্যের শারীরবৃত্তীয়, মানসিক ও হরমোনগত প্রভাবসহ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও আন্তর্জাতিক গবেষণার আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।