বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আজ শিক্ষা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন অনুপ্রেরণার নাম হলো রবিউল ইসলাম এবং মো. ইউনুস মিয়া, যারা কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এর সাবেক শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তারা ৪৯তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের শিক্ষা খাতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করছে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রবিউল ইসলাম কুষ্টিয়া ম্যাটস-এর ২৯তম ব্যাচের একজন উজ্জ্বল শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ মানুষের সেবা ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।
তিনি বলেন,
“জীবনে সাফল্য কখনো একদিনে আসে না; এটি আসে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে। শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়, বরং এটি মানবসেবার অন্যতম মাধ্যম।”
রবিউল ইসলামের অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কুষ্টিয়া ম্যাটস-এর সকল শিক্ষার্থীর জন্য গৌরবের প্রতীক। তার জীবন ও শিক্ষাজীবন প্রমাণ করে যে সংযম, অধ্যবসায় এবং নীতিনিষ্ঠা একজন তরুণকে দেশের সেবায় প্রতিশ্রুতিশীল করে।
মো. ইউনুস মিয়া ফরিদপুর সরকারি ম্যাটস-এর ৩১তম ব্যাচের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষার্থী। তার সাফল্য আসে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মনিবেদনের মাধ্যমে।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী ও নীতিনিষ্ঠ। সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে শান্ত, বিনয়ী এবং অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী হিসেবে চিহ্নিত করতেন। তিনি বলেন,
“পরিশ্রম, লক্ষ্যনিষ্ঠা ও ধৈর্য থাকলে যে কেউ স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন এবং কখনো থেমে না থাকুন।”
ফরিদপুর সরকারি ম্যাটস-এর শিক্ষকরা তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও উচ্চ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মো. ইউনুস মিয়ার অর্জন প্রমাণ করে যে স্বপ্ন ও লক্ষ্যনিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম মিললেই অসাধারণ সাফল্য সম্ভব।
রবিউল ইসলাম ও মো. ইউনুস মিয়া উভয়ই চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণের সময় থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর ম্যাটস থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, মানবসেবা ও নৈতিক মূল্যবোধ তাদের জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
এই শিক্ষার ভিত্তিতে তারা সমাজ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে পৌঁছেছেন। তারা তরুণ প্রজন্মকে বার্তা দেন:
রবিউল ইসলাম —
“সাফল্যের জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস পরিশ্রম। ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই জীবনের মূল পাঠ।”
মো. ইউনুস মিয়া বলেন —
“পরিশ্রম, লক্ষ্যনিষ্ঠা ও ধৈর্য থাকলে যে কেউ স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। কখনো থেমে না থাকাই জীবনের চাবিকাঠি।”
এই শিক্ষা কেবল শিক্ষার নয়, বরং যেকোনো তরুণের জীবনে অনুপ্রেরণার মূল ভিত্তি।
রবিউল ইসলাম ও মো. ইউনুস মিয়ার এই সাফল্যের কারণে সমস্ত ম্যাটস শিক্ষার্থী এবং DMF (Diploma in Medical Faculty) তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
এই অভিনন্দন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যকে সম্মানিত করছে না, বরং প্রত্যেক ম্যাটস শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া মানে দেশের শিক্ষা খাতে নেতৃত্ব ও জ্ঞানচর্চার দায়িত্ব গ্রহণ। রবিউল ইসলাম ও মো. ইউনুস মিয়ার সাফল্য প্রমাণ করে যে:
রবিউল ইসলাম ও মো. ইউনুস মিয়া প্রমাণ করেছেন যে নিরলস পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নীতিনিষ্ঠা যে কোনো তরুণকে দেশের সেবায় প্রস্তুত করতে পারে। রবিউল ইসলাম (কুষ্টিয়া ম্যাটস) ও মো. ইউনুস মিয়া (ফরিদপুর ম্যাটস) ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দেশের তরুণদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণার উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তাদের সাফল্য শিক্ষার মাধ্যমে পরিশ্রম ও নীতিনিষ্ঠার গুরুত্ব প্রমাণ করছে।
রেফারেন্স / সূত্র