আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

ডিএমএফ বাঁচলে বাঁচবে ৯০ হাজার গ্রামের স্বাস্থ্যসেবা — ডাঃ এন আই জাকিরের মানবিক ও সামাজিক বক্তব্য

বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে ডিএমএফ চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমএফ চিকিৎসকদের অবদান - ডাঃ এন আই জাকির

ডিএমএফ চিকিৎসকরা বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ

 

বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (DMF) ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা। দেশের প্রত্যন্ত ও অবহেলিত অঞ্চলে তারা সাধারণ জনগণের কাছে সবচেয়ে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছেন।

 

ডাঃ এন আই জাকির (এমবিবিএস – কেএমসি) বলেন,

 

“ডিএমএফ বাঁচলে ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা বাঁচবে।”

 

 

 

এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর উক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও তার সংকটের চিত্রকে স্পষ্টভাবে সামনে তুলে ধরেছে।

 

 

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত চিত্র

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৯০,০৪৯টি গ্রাম রয়েছে, যেখানে বসবাস করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজের প্রধান দায়িত্ব বহন করছেন ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা।

 

গ্ৰামীণ স্বাস্থ্য সেবার মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক। নেই সঠিক চিকিৎসা সেবা

ছবিঃ শ্যামপুর কমিউনিটি ক্লিনিক

 

তাদের বলা হয় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (Sub Assistant Community Medical Officer)। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সীমিত, সেখানে এই চিকিৎসকরাই সাধারণ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা।

 

ডিএমএফ চিকিৎসকদের কাজের ক্ষেত্রগুলো হলো:

 

  • প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান
  • প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন প্রদান
  • টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন
  • মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ
  • জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি
  • জরুরি রোগীর প্রাথমিক সহায়তা
  • গ্রামীণ জনগণ তাদের ভালোবেসে “গরিবের ডাক্তার” বলে সম্বোধন করে।

 

 

ডাঃ এন আই জাকির — মানবিকতার প্রতীক ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার কণ্ঠস্বর

 

ডাঃ এন আই জাকির শুধুমাত্র একজন এমবিবিএস ডাক্তার নন; তিনি বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

 

“আমার রক্তে #SaveDMF মিশ্রণ করে রেখে দিলাম। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন ডিএমএফ থাকবে আমার হৃদয়ে।”

 

 

 

এই উক্তি একজন চিকিৎসকের মানবিক অঙ্গীকার ও পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

 

 

#SaveDMF আন্দোলন — জনস্বাস্থ্য রক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা

 

বর্তমান সময়ে আলোচিত #SaveDMF আন্দোলন কেবল ডিএমএফ চিকিৎসকদের পেশাগত স্বীকৃতির দাবি নয়; এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা রক্ষার একটি জাতীয় আন্দোলন।

 

ছবিঃ ৪ দফা দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের যোক্তিক দাবি মেনে নিয়ে যা করা যেতে পারেঃ

 

1. ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের পেশাগত স্বীকৃতি প্রদান

2. কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি স্বাস্থ্যখাতে তাদের স্থায়ী পদায়ন

3. গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখা

4. জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ

 

 

 

ডাঃ এন আই জাকির বলেন,

 

“ডিএমএফ চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালানো মানে জনস্বাস্থ্যের ভিত্তি ধ্বংস করা।”

 

 

 

গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ডিএমএফদের অপরিহার্যতা

 

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জেলা শহলে যাতায়াত অনেক সময় অসম্ভব। পরিবহন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি মিলিয়ে এখানে চিকিৎসা সেবার প্রধান শক্তি ডিএমএফ চিকিৎসকরা।

 

তারা জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদান করছেন।

যদি এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে, যা দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

 

 

সামাজিক প্রতিবাদ ও বাস্তবতা

 

ডাঃ এন আই জাকির ন্যাচারাল মেডিকেল ডট হেলথকে বলেন,

 

“আমি একজন এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে ডিএমএফ চিকিৎসকদের পক্ষে কথা বলায় কিছু এমবিবিএস ডাক্তার আমাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। অধিকাংশই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছে, যেখানে শিক্ষার মান প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মনে করে, ডিএমএফ চিকিৎসকরা কম মূল্যে চিকিৎসা দিলে তাদের আয় কমে যাবে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন,

 

“প্রত্যেকের রিজিক মহান রাব্বুল আলামীন নির্ধারণ করেছেন। প্রশিক্ষিত ডিএমএফ চিকিৎসকদের কমিউনিটি ক্লিনিকে পদায়ন করা হলে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে, ইনশাআল্লাহ।”

 

 

 

ডিএমএফ বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ

ডিএমএফ চিকিৎসকদের সঠিকভাবে স্বীকৃতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা মানে গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা।

 

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:

 

  • ডিএমএফ চিকিৎসকদের স্থায়ী পদায়ন
  • প্রশিক্ষণ ও মান উন্নয়ন
  • সরকারি নীতিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি

 

 

“ডিএমএফ বাঁচলে বাঁচবে গরিবের চিকিৎসা, বাঁচবে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।”

ডাঃ মোঃ এন আই জাকির, এমবিবিএস (KMC), অধ্যক্ষ, টাঙ্গাইল-ম্যাটস

 

 

 

রেফারেন্স/সূত্র:

Bangladesh Bureau of Statistics (BBS), National Population & Housing Census, 2022

সাক্ষাৎকার: ডাঃ এন আই জাকির, ন্যাচারাল মেডিকেল ডট হেলথ


সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর