বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (DMF) ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা। দেশের প্রত্যন্ত ও অবহেলিত অঞ্চলে তারা সাধারণ জনগণের কাছে সবচেয়ে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছেন।
ডাঃ এন আই জাকির (এমবিবিএস – কেএমসি) বলেন,
“ডিএমএফ বাঁচলে ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা বাঁচবে।”
এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর উক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও তার সংকটের চিত্রকে স্পষ্টভাবে সামনে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৯০,০৪৯টি গ্রাম রয়েছে, যেখানে বসবাস করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজের প্রধান দায়িত্ব বহন করছেন ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা।
তাদের বলা হয় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (Sub Assistant Community Medical Officer)। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সীমিত, সেখানে এই চিকিৎসকরাই সাধারণ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা।
ডিএমএফ চিকিৎসকদের কাজের ক্ষেত্রগুলো হলো:
ডাঃ এন আই জাকির শুধুমাত্র একজন এমবিবিএস ডাক্তার নন; তিনি বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
“আমার রক্তে #SaveDMF মিশ্রণ করে রেখে দিলাম। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন ডিএমএফ থাকবে আমার হৃদয়ে।”
এই উক্তি একজন চিকিৎসকের মানবিক অঙ্গীকার ও পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
বর্তমান সময়ে আলোচিত #SaveDMF আন্দোলন কেবল ডিএমএফ চিকিৎসকদের পেশাগত স্বীকৃতির দাবি নয়; এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা রক্ষার একটি জাতীয় আন্দোলন।
1. ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের পেশাগত স্বীকৃতি প্রদান
2. কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি স্বাস্থ্যখাতে তাদের স্থায়ী পদায়ন
3. গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখা
4. জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ
ডাঃ এন আই জাকির বলেন,
“ডিএমএফ চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালানো মানে জনস্বাস্থ্যের ভিত্তি ধ্বংস করা।”
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জেলা শহলে যাতায়াত অনেক সময় অসম্ভব। পরিবহন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি মিলিয়ে এখানে চিকিৎসা সেবার প্রধান শক্তি ডিএমএফ চিকিৎসকরা।
তারা জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদান করছেন।
যদি এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে, যা দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
ডাঃ এন আই জাকির ন্যাচারাল মেডিকেল ডট হেলথকে বলেন,
“আমি একজন এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে ডিএমএফ চিকিৎসকদের পক্ষে কথা বলায় কিছু এমবিবিএস ডাক্তার আমাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। অধিকাংশই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছে, যেখানে শিক্ষার মান প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মনে করে, ডিএমএফ চিকিৎসকরা কম মূল্যে চিকিৎসা দিলে তাদের আয় কমে যাবে।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রত্যেকের রিজিক মহান রাব্বুল আলামীন নির্ধারণ করেছেন। প্রশিক্ষিত ডিএমএফ চিকিৎসকদের কমিউনিটি ক্লিনিকে পদায়ন করা হলে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে, ইনশাআল্লাহ।”
ডিএমএফ চিকিৎসকদের সঠিকভাবে স্বীকৃতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা মানে গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা।
“ডিএমএফ বাঁচলে বাঁচবে গরিবের চিকিৎসা, বাঁচবে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।”
— ডাঃ মোঃ এন আই জাকির, এমবিবিএস (KMC), অধ্যক্ষ, টাঙ্গাইল-ম্যাটস
রেফারেন্স/সূত্র:
Bangladesh Bureau of Statistics (BBS), National Population & Housing Census, 2022
সাক্ষাৎকার: ডাঃ এন আই জাকির, ন্যাচারাল মেডিকেল ডট হেলথ