আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

স্বাস্থ্য খাতে সাগরচুরি: ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ৭ লাখ টাকার কম্পিউটার–কেলেঙ্কারি ও ১২৭ কোটি ভ্রমণব্যয়ের অভিযোগ

স্বাস্থ্য খাতে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কম্পিউটার কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের চিত্র
স্বাস্থ্য খাতে ৭ লাখ টাকার কম্পিউটার কেনা–সংক্রান্ত বিতর্ক

 

স্বাস্থ্য খাতে সাগরচুরি: কেনা হচ্ছে ৭ লাখ টাকা দামের ১২ হাজার কম্পিউটার, ভ্রমণব্যয় ১২৭ কোটি টাকা

 

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদিত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের নামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাজেটে অস্বাভাবিক ব্যয়, অতিরিক্ত দরপত্র মূল্য, কম্পিউটার কেনায় অস্বাভাবিকতা, এবং কনসালটেন্সি খাতে বহুগুণ বেশি বরাদ্দ—এসব অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

 

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও আর্থিক কাঠামো

 

এটি একটি বহুমাত্রিক জাতীয় প্রকল্প, যার মূল লক্ষ্যসমূহ হলো—

 

  • স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন
  • ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু
  • স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা
  • চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়
  • জেলা–উপজেলা পর্যায়ের সেবা আরও বিস্তৃত করা

 

 

মোট বাজেট: ১৩,০০০ কোটি টাকা

এর মধ্যে—

 

  • সরকারি তহবিল: ৮,৫০০ কোটি
  • বিদেশি ঋণ: ৩,২০০ কোটি
  • সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন: ১,৩০০ কোটি

 

 

তবে পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত খরচ বিশ্লেষণে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে।

 

 

 

অস্বাভাবিক আইটি ব্যয়: ৫০–৬০ হাজার টাকার কম্পিউটার ৭ লাখে!

 

সবচেয়ে আলোচিত অনিয়ম—কম্পিউটারের দাম ৭ লাখ টাকা।

 

বাংলাদেশের বাজারে সাধারণ এক অফিস ডেক্সটপ (Core i5, 8GB RAM, 512GB SSD) সহজেই ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

 

কিন্তু প্রকল্পে একই স্পেসিফিকেশনের কম্পিউটারের দাম ধরা হয়েছে—

 

  • প্রতি ইউনিট: ৭,০০,০০০ টাকা
  • মোট ইউনিট: ১১,৮৭০টি
  • মোট বরাদ্দ: ৮০৫.৫০ কোটি টাকা

 

এটি বাজারমূল্যের তুলনায় ১২ গুণ বেশি!

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—

 

“কম্পিউটারের দাম এত বেশি হওয়া স্বাভাবিক নয়। এখানে স্পষ্টভাবেই ওভারপ্রাইসিং বা টেন্ডারে অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে।”

 

 

 

 

 

ভ্রমণ খরচে ১২৭ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক বরাদ্দ’

 

ওপেন টেন্ডার ও প্রকল্প রিপোর্টে দেখা যায়—

 

কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভ্রমণ ব্যয়: ১২৭ কোটি টাকা

 

 

এটি প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় বহু গুণ বেশি, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজ।

 

 

 

পরামর্শদানে ২১৬ কোটি টাকা: উদ্দেশ্য কতটা যৌক্তিক?

 

প্রকল্পে আরও আছে—

 

কনসালটেন্সি / পরামর্শদান ফি: ২১৬ কোটি টাকা

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে—

 

এই পরিমাণ ব্যয় প্রকল্পায়ন ও কারিগরি কাজের তুলনায় অস্বাভাবিক

দেশের স্বাস্থ্যখাতে এখনো মানবসম্পদ সংকট তীব্র

 

তাহলে এই বিপুল পরিমাণ পরামর্শফি কেন?

 

 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) এক সদস্য বলেন—

 

“২১৬ কোটি টাকায় কতটা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে সেটা প্রশ্নের বিষয়। ওই অর্থ দিয়ে ডাক্তার–নার্স নিয়োগ বা যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলে সেবা আরও কার্যকর হতো।”

 

 

 

 

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ: ‘স্বাস্থ্য খাতে টাকা আছে, সমস্যা দুর্নীতিতে’

 

অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন—

 

“স্বাস্থ্য খাতে অর্থের অভাব নেই। কিন্তু অনিয়ম, অদক্ষতা ও দুর্নীতি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেও একই ধরণের সাগরচুরির অভিযোগ উঠছে, যা উদ্বেগজনক।”

 

 

 

 

 

হোয়াইট পেপার রিপোর্টে দুর্নীতির ইঙ্গিত

 

হোয়াইট পেপার (১ ডিসেম্বর)–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—

 

  • DGHS–এর ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম
  • পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতোই দুর্নীতি অব্যাহত
  • অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেও স্বচ্ছতার সংকট স্পষ্ট

 

 

এতে বলা হয়—

 

“স্বাস্থ্যখাতের প্রকল্পগুলোতে টেন্ডার–কারসাজি, ওভারপ্রাইসিং এবং কৃত্রিম ব্যয় বাড়ানো এখন রীতিমতো সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।”

 

 

 

 

সরকারের প্রতিক্রিয়া: ‘ব্যয় পুনর্বিবেচনা করা হবে’

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়—

 

অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে

অস্বাভাবিক ব্যয় পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পরও অডিটের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

 

 

পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র মতে—

 

১ ডিসেম্বর বৈঠকে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদিত

এর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের প্রকল্পটি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়

বাজেট অডিটের জন্য আলাদা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব উঠেছে

 

 

 

 

জনমত: সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

 

নেটিজেনদের মন্তব্য—

 

  • “স্বাস্থ্যের নামে লুটপাটের এই চিত্র জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
  • “অন্তর্বর্তী সরকারও কি একই পথে?”
  • “৭ লাখে কম্পিউটার কেনা হচ্ছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

 

 

 

 

১৩ হাজার কোটি টাকার এ বিশাল প্রকল্পের ব্যয়ে অস্বাভাবিকতা ও দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অনিয়মকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

 

  • প্রকল্পের পুনর্বিবেচনা
  • স্বচ্ছ টেন্ডার
  • স্বাধীন অডিট
  • দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

 

 

—এসব ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

রেফারেন্স / সূত্র

 

  • হোয়াইট পেপার রিপোর্ট, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) — প্রকল্প ব্যয় বিশ্লেষণ নথি
  • পরিকল্পনা কমিশন ও একনেক সভার সারসংক্ষেপ
  • বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বক্তব্য
  • অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের বিশ্লেষণ (মিডিয়া স্টেটমেন্ট)

সম্পাদক
মুহাম্মদ রাজু আহমেদ  
প্রকাশিত মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর