আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

যৌন চাহিদা পূরণে অপ্রচলিত পদ্ধতি: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

যৌন চাহিদা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় এবং মানসিক চাহিদা। যুগে যুগে যৌন তৃপ্তি অর্জনের জন্য মানুষ বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বন করেছে—এর মধ্যে কিছু পদ্ধতি প্রচলিত ও চিকিৎসাগতভাবে স্বীকৃত হলেও, অনেক সময় কিছু অপ্রচলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির দিকেও ঝুঁকে পড়েন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও ওয়েবসাইটের সহজলভ্যতার কারণে এসব অপ্রচলিত যৌন পদ্ধতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—এই ধরনের পদ্ধতিতে যৌন তৃপ্তির পরিবর্তে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা, সংক্রমণ এমনকি জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

 

 

অপ্রচলিত যৌন পদ্ধতি: কী কী বোঝায়

 

“অপ্রচলিত যৌন পদ্ধতি” বলতে বোঝায় এমন সব যৌন আচরণ বা বস্তু ব্যবহার, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত নয় কিংবা স্বাভাবিক যৌনমিলনের বাইরে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ:

 

ফলমূল, সবজি বা রান্নাঘরের বিভিন্ন জিনিস (যেমন কলা, শসা, বেগুন, বোতল ইত্যাদি) যৌনাঙ্গে ব্যবহার

 

বিভিন্ন অচিকিৎসাগত বা অপরিচ্ছন্ন সামগ্রী দিয়ে স্বমেহন

 

ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘রাফ’ যৌন আচরণ যেখানে শরীরের ক্ষতির ঝুঁকি বেশি

 

যৌনাঙ্গে রাসায়নিক বা বিদেশি পদার্থ প্রয়োগ

 

 

এসব পদ্ধতির অধিকাংশই পর্নোগ্রাফি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘DIY টিপস’ বা ব্যক্তিগত কৌতূহল থেকে উদ্ভূত।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি

 

বিভিন্ন যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইউরোলজিস্টরা জানাচ্ছেন, এসব অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহারের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে:

 

1. উদ্দীপনা বৃদ্ধি বা নতুন অভিজ্ঞতা লাভের চেষ্টা

 

 

2. যৌন খেলনা (sex toys) না পাওয়া বা না জানার কারণে বিকল্প বস্তু ব্যবহার

 

 

3. পর্নোগ্রাফি দেখে অনুসরণ করা

 

 

 

কিন্তু এই তাড়না থেকেই শুরু হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

 

> “যৌনাঙ্গ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম অংশ। সেখানে কোনো বিদেশি বা অচিকিৎসাগত বস্তু ব্যবহার করলে সংক্রমণ, আঘাত বা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে,” বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুমাইয়া রহমান।

 

 

 

 

 

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জটিলতা

 

১. শারীরিক আঘাত

 

কঠিন বা ধারালো বস্তু ব্যবহারের ফলে যোনি, পায়ুপথ বা পুরুষাঙ্গে কাটা, ছেঁড়া বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।

 

বেগুন, বোতল বা লম্বা সবজির মতো বস্তু শরীরের ভেতরে আটকে গেলে তা বের করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

২. সংক্রমণ

 

অপরিষ্কার ফল বা সবজিতে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থাকতে পারে। এগুলো যোনি বা পায়ুপথে প্রবেশ করলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI), ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস, ক্যান্ডিডা সংক্রমণ, এমনকি পেটের অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

অনেকে যৌন খেলনার পরিবর্তে প্লাস্টিক বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করেন—যেগুলো জীবাণুমুক্ত না হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

 

 

৩. রাসায়নিক জ্বালা ও অ্যালার্জি

 

অনেকেই উদ্দীপনা বাড়ানোর জন্য তেল, ক্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন, যা যৌনাঙ্গের ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালা-পোড়া ও চুলকানির কারণ হতে পারে।

 

 

৪. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

 

অনেকে গোপনে এসব কাজ করার পর অপরাধবোধ, লজ্জা বা মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। এতে যৌনজীবনে চাপ, পার্টনারের সাথে সম্পর্কের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকি

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রচলিত পদ্ধতিতে যৌন চাহিদা পূরণের ফলে ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যেরও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ (STI) ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া এসব সমস্যা নিয়ে অনেকেই সামাজিক লজ্জার কারণে চিকিৎসকের কাছে যান না, ফলে জটিলতা আরও বেড়ে যায়।

 

 

নিরাপদ বিকল্প ও সচেতনতা

 

 

 

১. চিকিৎসা অনুমোদিত যৌন খেলনা (Sex Toys) ব্যবহার

 

আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত এবং মেডিকেল-গ্রেড সিলিকন বা উপকরণ দিয়ে তৈরি খেলনা ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

এগুলো ব্যবহারের আগে ও পরে সঠিকভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

 

 

2. লুব্রিকেন্ট ও সঠিক পদ্ধতি

 

যৌনক্রিয়ার সময় ঘর্ষণ কমাতে নিরাপদ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা উচিত।

 

শরীরের জন্য ক্ষতিকর তেল বা সাবানজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা উচিত নয়।

 

 

 

3. সচেতনতা বৃদ্ধি

 

সামাজিকভাবে যৌন শিক্ষা ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন।

 

চিকিৎসকদের কাছে লজ্জা না পেয়ে সময়মতো পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

যৌন তৃপ্তি অর্জন জীবনের একটি স্বাভাবিক চাহিদা। কিন্তু কৌতূহল, ভুল তথ্য বা সহজলভ্য বিকল্পের কারণে কেউ যেন বিপজ্জনক পথে না হাঁটে—এটাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা। অপ্রচলিত যৌন পদ্ধতিতে সাময়িক আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে সংক্রমণ, আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার আশঙ্কা। তাই যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা, সঠিক তথ্য ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই একমাত্র সঠিক পথ।

 

 

 

রেফারেন্সঃ

 

1. World Health Organization (WHO). Sexual and reproductive health. https://www.who.int

2. Centers for Disease Control and Prevention (CDC). Sexual Health Basics. https://www.cdc.gov/sexualhealth

3. Planned Parenthood. Safe Use of Sex Toys. https://www.plannedparenthood.org

4. Journal of Sexual Medicine. Injury and Foreign Body in the Genital Tract: A Clinical Review.


সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর