বাংলাদেশের চিকিৎসা পেশা সব সময়ই দেশের মানুষের আস্থা ও সেবার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে, বিশেষ করে MBBS চিকিৎসক ও DMF (Diploma in Medical Faculty) পেশাজীবীদের মধ্যে যে বিভাজন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাস্থ্যখাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর এটা হচ্ছে কিছু উগ্রবাদী উস্কানি দাতাদের জন্যে।
এই প্রসঙ্গে এক তরুণী চিকিৎসক লাবণ্য সাহা সামাজিক মাধ্যমে একটি স্পষ্ট ও বাস্তবধর্মী বার্তা দিয়েছেন, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে চিকিৎসা সমাজে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বার্তা।
লাবণ্য সাহা একজন উস্কানিদাতার পোষ্টের কমেন্টে বলেন—
“সত্যি বলতে আমি একজন মেয়ে হয়ে বলছি, আপনি একজন উস্কানিদাতা। আপনার নিজের জন্যই ম্যাটস রা এখন আমাদের সাথে এমন শুরু করছে। কি দরকার ওদের পিছনে লেগে থাকার? নিজেরা নিজেদের কাজ করি না, নিজেরা কিভাবে উন্নতি করবো সেই চেষ্টাটা করি না, বরং পরে আছি আপনার চেয়ে নিম্ন গ্রেডের কারো সাথে তুলনায়। এইসব অতিরঞ্জিত কোন কিছুই ভালো না। সব পেশার মধ্যে ভালো খারাপ আছে। আমরাও তো অনেক ডিএমএফ-এর সাথে কাজ করছি, আমাদের মধ্যে কি সুন্দর বন্ডিং! কিন্তু কিছু লোক আছে যারা সবসময় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। হাত জোর করে বলছি, এইসব ছাড়ুন। এমনি তো আমাদের দেশের মেডিকেল শিক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে — সেদিকে নজর দিন। আমাকে আবার দালাল ট্যাগ দেবেন না, আমি সত্যি কথাই বলেছি।”
এই বক্তব্য শুধু এক তরুণ চিকিৎসকের ব্যক্তিগত মতামত নয় — বরং এটি চিকিৎসা সমাজের অভ্যন্তরে থাকা একটি বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পেশাগত শ্রেণিবিন্যাস নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই স্বাস্থ্যসেবাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে MBBS বনাম DMF বিতর্কটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। কিছু মানুষ এই ইস্যুকে ব্যবহার করছে নিজেদের জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক লাভের জন্য, যার ফলে পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে MBBS এবং DMF পেশাজীবীরা একসঙ্গে কাজ করলেও, মাঠ পর্যায়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি থেকে সম্পর্কের অবনতি দেখা যায়।
তার বক্তব্যে যে বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে, তা হলো —
চিকিৎসা পেশা একটি মানবিক পেশা, এখানে “উচ্চ- গ্ৰেডের পেশাজীবী দের কখনোই নিম্ন গ্রেড এর পেশাজীবী দের উপর প্রভাব বিস্তার করা উচিত নয় বরং নিজেদের মান আরো উন্নত করার জন্য কাজ করা উচিত” , সেবার মানই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সমাজে বিভাজন নয়, সহযোগিতা দরকার।
মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধার, এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষা — এই তিনটি বিষয়েই এখন গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চিকিৎসক সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে পারে। তারা বলেন, “MBBS বা DMF—দুজনই দেশের মানুষের সেবার জন্য কাজ করছেন। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাই হোক পেশার মূলনীতি।”
রেফারেন্স/সূত্রঃ