২ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা—বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভিত্তি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) পাসকৃত প্রায় ৪০ হাজার নিবন্ধিত মেডিকেল ডিপ্লোমাধারী দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্বের যন্ত্রণা ভোগ করছেন। দেশের স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত ৪.৫ বছর মেয়াদি এই ডিপ্লোমাধারীরা ২০২৫ সালেও এখনো চাকরি পাচ্ছেন না—যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় সংকেত।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিয়োগপ্রত্যাশী ডিএমএফবৃন্দ এবং বিডিএমএ-এর নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাস্তবায়ন উপকমিটির সার্বিক সহযোগিতায় আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত হয় “উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি”।
ডিএমএফদের দাবি অনুযায়ী—তারা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। স্বাস্থ্য খাতের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা তাদের দাবি যৌক্তিক বলে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (UCMO) পদে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে জানা যায়—
ডিএমএফ নেতা এনাম উল্লাহ সিকদার অভিযোগ করেন—
“নিয়োগ বিধির জটিলতা দূর হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো নিয়োগ আটকে আছে। আমরা এ দেশের নাগরিক; আমাদের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যস্ততম সেক্টর হলো ইউনিয়ন সাব-সেন্টারগুলো। কিন্তু এসব স্থানে অসংখ্য চেয়ার শূন্য। অভিযোগ রয়েছে—এই শূন্য পদে নিয়োগ না দিয়ে নন-মেডিকেল ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি বা হালকা জ্বরের মতো রোগেও রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন। এতে—
যেখানে ডিএমএফরা রেফারেল সিস্টেমে বিশেষ প্রশিক্ষিত, অথচ তারা বাইরে—এর কারণ জানতে মাঠপর্যায়ের সবাই প্রশ্ন তুলেছেন।
ডিএমএফরা যুক্তি দেন—
তাদেরকে ৪.৫ বছরের মেডিকেল ডিপ্লোমা করানো হয়েছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু—
তাদের অভিযোগ—
“স্বাস্থ্যখাতের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল পেশা-পেশার মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি করে স্বাস্থ্যসেবায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।”
তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে এসব বিষয়ে গভীর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম—না হলে আমরণ অনশন
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ডিএমএফ নেতৃত্ব ঘোষণা করেন—
১ সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে
তারা জানান—এই আন্দোলন আর থামবে না যতক্ষণ না ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।
এনাম উল্লাহ সিকদার
নিয়োগপ্রত্যাশী ডিএমএফ ও সদস্য সচিব
নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাস্তবায়ন উপ-পরিষদ, বিডিএমএ
____