আপডেট
কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত পিংনা রসপাল জামে মসজিদ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিস্মৃতির করুণ অধ্যায় একজন আপোসহীন দেশনেত্রীর বিদায়: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার স্বাস্থ্যখাত সংস্কার খসড়া ও ডিএমএফদের বাদ দেওয়ার বিতর্ক: জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? কিভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) বাতিল বা সংশোধনের জন্য ইমেইল করবেন: সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে গাইড বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫: ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের তীব্র আপত্তি, বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ডায়াবেটিসে সুচবিহীন রক্ত পরীক্ষা: এমআইটির বিপ্লবী আলোভিত্তিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থানের সময়ে তরুণদের অবিবেচক আচরণ: হামজা–শমিতদের উত্তরসূরীদের ভুল পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক ডিএমএফ পরিচয়কে ধারণ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ডিএমএফ নিয়োগ বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বড় ঘোষণা ডিএমএফ নিয়োগ আন্দোলনের জরুরি নোটিশ: ৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত — ন্যায্য দাবির লড়াই অব্যাহত ডিএমএফদের নিয়োগ সংকট: কেন এখনই নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি — ১৫ বছরের বাস্তবতা, আন্দোলন ও সমাধান বিশ্লেষণ

ওজন বাড়ানোর সম্পূর্ণ গাইড: স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ব্যায়াম এবং সতর্কতার বিস্তারিত তথ্য

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি
সুষম খাদ্য ও ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বৃদ্ধি

ওজন বাড়ানোর সম্পূর্ণ গাইড – স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ব্যায়াম

 

ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা শুধু শারীরিক চেহারার কারণে নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কম ওজনের মানুষদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শারীরিক শক্তি কম থাকে, ক্লান্তি বেশি লাগে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য।

 

১। ওজন বৃদ্ধির জন্য খাদ্যাভ্যাস

 

সকালের নাস্তা:

 

  • দুধ: দুধ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সকাল কিংবা দিনের যেকোনো সময় এক গ্লাস দুধ খাওয়া যেতে পারে। [সূত্র: Healthline]
  • কলা: ভিটামিন বি-৬, পটাশিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি হজমে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সহজলভ্য এবং খেতে সুবিধাজনক।
  • ডিম: প্রাকৃতিক মাল্টিভিটামিন হিসেবে পরিচিত। ভিটামিন-এ, বি২, জিংক এবং অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ। চোখ, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। [সূত্র: Mayo Clinic]
  • খেজুর: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং ফলিক এসিডে সমৃদ্ধ। হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

 

 

দুপুরের খাবার:

 

  • ডাল: প্রোটিন, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ। প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, পেটের উপকারী জীবাণু বৃদ্ধি করে। পাতলা ডালের পরিবর্তে ঘন ডাল খাওয়াই উত্তম।
  • টক দই: প্রোটিন এবং দুধের পুষ্টি বজায় রাখে। পেটের উপকারী জীবাণু বৃদ্ধি করে। নিয়মিত মিষ্টি দই এড়ানো উত্তম।
  • মুরগির মাংস: প্রোটিনের স্বাস্থ্যকর উৎস। গরু-খাসির তুলনায় কম ক্ষতিকর চর্বি আছে। প্রতিদিন ১–২ টুকরো খাওয়া উত্তম।

 

 

রাতের খাবার:

দুপুরের খাবারের মতোই রাতের খাবারও স্বাস্থ্যকর হওয়া উচিত। দুপুরে বাদ পড়া কোনো খাবার রাতে যোগ করা যেতে পারে।

 

হালকা নাস্তা / স্ন্যাকস:

 

বাদাম: চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজু, পেস্তা — স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

 

কিসমিস: ছোট পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল যোগ করে। দাঁতের সমস্যা এড়াতে বাদাম বা টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া উত্তম।

 

বীজ: সূর্যমুখী, তিসি, তিল, মিষ্টিকুমড়ার বিচি। ভাত বা তরকারিতে হালকা করে ছিটিয়ে খাওয়া যায়।

 

 

ক্যালরি লক্ষ্য:

দৈনিক অতিরিক্ত ৩০০–৫০০ ক্যালরি খাওয়া উচিত। দ্রুত ওজন বৃদ্ধি স্বাস্থ্যকর নয়। ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানো উত্তম।

 

২। ওজন বৃদ্ধির ব্যায়াম

 

স্ট্রেংথ ট্রেনিং: মাংসপেশি বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ঘরে যন্ত্র ছাড়াই করা যায়।

 

  • প্রধান ব্যায়াম: Pushup, Pullup, Plank, Squat।

 

সময়: সপ্তাহে কমপক্ষে ২.৫ ঘণ্টা। ব্যায়াম অভ্যাস না থাকলে ধীরে ধীরে শুরু করা উচিত।

ব্যায়াম করলে শরীর থেকে ক্যালরি খরচ হয়, কিন্তু নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরে চর্বি জমার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর মাংসপেশি বৃদ্ধি হয়।

 

৩। ওজন বৃদ্ধির পূর্ব সতর্কতা

 

  • ওজন বৃদ্ধির প্রয়োজন বোঝা: স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজনের মানুষদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। যেমন: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ক্লান্তি, অপুষ্টি, মাসিক সমস্যাসহ অন্যান্য জটিলতা।
  • রোগজনিত সমস্যা: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, মানসিক রোগ ইত্যাদি। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
  • খাবারের সমস্যা: অরুচি, মুখে ঘা, গিলে অসুবিধা, পেট ফাঁপা, বারবার অসুস্থতা, হঠাৎ ওজন কমা ইত্যাদি লক্ষণগুলিতে সতর্ক থাকতে হবে।
  • ওষুধ এড়ানো: অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার না করা উচিত।
  • ফাইবার বৃদ্ধি: খাদ্য পরিবর্তনের সাথে পানি পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন

 

 

 

৪। কমপ্লিমেন্টারি তথ্য

 

  • ফলমূল: আভোকাডো, কিউই, আপেল, পেয়ারা। আভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি, কিন্তু বাংলাদেশে সীমিত পাওয়া যায়।
  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: চানা, সয়াবিন, মাছ, লেবু-মিষ্টি দই।
  • চর্বি: স্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন বাদাম, বীজ, নারকেল তেল।

 

 

৫। ওজন বৃদ্ধির জন্য পুষ্টির পরিমাণ

 

খাবার পরিমাণ ক্যালরি (প্রায়) পুষ্টি উপাদান

 

খাবার পরিমাণ ক্যালরি (প্রায়) পুষ্টি উপাদান
দুধ ১ গ্লাস ১৫০ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২
কলা ১টি ৮৯ ফাইবার, ভিটামিন বি-৬
ডিম ১টি ৭৮ প্রোটিন, ভিটামিন-এ, জিংক
খেজুর ৫টি ১৩৫ ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম
বাদাম ২০ গ্রাম ১২০ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল
কিসমিস ২০ গ্রাম ৬০ ভিটামিন, মিনারেল

 

 

উপরের পরিমাণগুলো দৈনিক খাদ্যের সাথে মিলিয়ে গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বৃদ্ধি সম্ভব।


সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫


আরো পড়ুন

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর