প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফুসফুস দিবস (World Lung Day), একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবস যা ফুসফুসের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগ, প্রতিরোধ, নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রসারে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০২৫ সালের দিবসের থিম হচ্ছে “Healthy Lungs, Healthy Life”, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে ফুসফুসের যত্ন নেওয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগ কমিয়ে আনার প্রচারণাকে উৎসাহিত করে।
“Healthy Lungs, Healthy Life” থিমটি দৃষ্টি দেয়:
প্রতিদিনের সাধারণ অভ্যাস ও পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষা করা
শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগের সনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় উন্নয়ন
ইনহেলড ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর প্রতি সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
Forums of International Respiratory Societies (FIRS) ২০২৫ সালে দুটি বড় বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাচ্ছে:
1. Global Lung Health Taskforce — ফুসফুস স্বাস্থ্য পরিমাপ ও মূল্যায়নে জীববৈচিত্র এবং সামাজিক উপাদানগুলোর অন্তর্ভুক্তি করা। স্পাইরোমেট্রি টুলকিট ও লাং হেলথ ইনডেক্স তৈরি করা হচ্ছে।
2. Improving Access to Inhaled Medicines — COPD, হাঁপানি ও অন্যান্য রেস্টপিরেটরি রোগে আক্রান্তদের কাছে সাশ্রয়ী ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।
—
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্রনিক শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে ভোগে।
ধূমপান এবং বায়ুদূষণ শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে নির্ণয় ও চিকিৎসায় ফাঁক বিদ্যমান, ফলে রোগের প্রগতি ও মৃত্যুহার বেশি।
—
নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যা প্রত্যেকেই অনুসরণ করতে পারেন:
1. পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করা
বায়ুদূষণ কমাতে সরকারি নীতি ও পরিবহন, শিল্প, বাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ।
ঘরের ভেতর ধোঁয়া, রাসায়নিক গ্যাস, ধোঁয়াপানির উৎস বন্ধ রাখা।
2. ধূমপান ত্যাগ ও ধূমপানবিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা
ধূমপান ত্যাগ করার উপযুক্ত সহায়তা নেওয়া।
পার্শ্ববর্তী ধূমপান (second-hand smoke) এড়ানো।
3. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম
হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার — শ্বাসপ্রণালীকে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করে।
4. টিকা গ্রহণ
ফ্লু, নিউমোনিয়া, কোভিড-১৯ ইত্যাদির বিরুদ্ধে টিকা নেওয়া।
5. সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টি খাবার, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য, পর্যাপ্ত জল পান।
6. শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগের লক্ষণ সচেতন হওয়া ও দ্রুত চিকিৎসা নেয়া
Persistent cough (দীর্ঘস্থায়ী কাশি), শ্বাসকষ্ট, বুকের ভার অনুভব হলে ফুসফুস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
—
সরকার এবং স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারকদের উচিত ফুসফুস স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্য নীতির অগ্রাধিকার দেওয়া।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগের জন্য আরও দক্ষ ও কেনাকাটা-যোগ্য চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা।
জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রচার শক্তিশালী করা।
—
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ, ধূমপান, গৃহস্থালী জ্বালানির ধোঁয়া ও শীতকালে কুয়াশা এসব কারণ ফুসফুসের রোগে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
জেলা ও গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌছাতে সমস্যা রয়েছে, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগের নির্ণয় মাঝে মাঝেই দেরিতে হয়।
সরকার এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থা-এগুলোর কাজ বাড়াতে হবে যাতে ফুসফুসের রক্ষার সচেতনতা ও সেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়।
—
“বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৫” উদযাপন করা হচ্ছে থিম “Healthy Lungs, Healthy Life” এর অধীনে। থিমটির উদ্দ্যেশ্য হলো ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও চিকিৎসায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা — ব্যক্তি ও সমাজ উভয় স্তরে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৪৫ মিলিয়ন মানুষ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত, এবং বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ কম। বাংলাদেশেও এই রোগগুলোর কারণে জনস্বাস্থ্য বিপদ রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ফুসফুস সুস্থ রাখা সম্ভব।